ব্রেকিং:
স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে রংপুর জেলায় প্রায় ছয় হাজার মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মসজিদে মসজিদে এসব ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মহিউদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ঈদের সকালে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ১০ মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে অর্ধশত ঘরবাড়ি। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ
  • মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
আজ মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। লালমনিরহাটে ঈদের সকালে ১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি রংপুরে ছয় হাজার মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তী আজ
১৩৯

অবশেষে জাবি’তে ভর্তি হতে যাচ্ছে শাকিল 

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল সংবাদ প্রকাশের পর টাকার কাছে হার মানা শাকিলের পাশে দাঁড়িয়েছে অনেকেই।
সোমবার সকালে ভর্তির প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পেয়ে রাজধানী ঢাকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবির) উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন শাকিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েও মাত্র ২০ হাজার টাকার জন্য ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল মেধাবী হোটেল শ্রমিক শাকিল রানার।

শাকিল লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি গ্রামের ভূমিহীন হোটেল শ্রমিক মমিনুল ইসলামের ছেলে। তিনি আদিতমারী স্টোরপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের নাতি। 

স্থানীয়রা জানান, ভূমিহীন মমিনুল ইসলাম এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসারের খরচ জোগাতে হোটেল শ্রমিকের কাজ করেন। আর্থিক অনটনের কারণে বড় ছেলে শাকিলকে আদিতমারী স্টোরপাড়া গ্রামে তার নানার বাড়িতে রেখেছেন। ছোটবেলা থেকেই চা বিক্রেতা নানা আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে থেকে নানার চায়ের দোকানে সহায়তার পাশাপাশি পড়াশোনা করছেন শাকিল। 

আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হলেও অদম্য মেধাবী শাকিল রানা শতবাধা অতিক্রম করে চালিয়ে যাচ্ছেন লেখাপড়া। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুতেই লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় চালিয়ে নেন লেখাপড়ার খরচ। আদিতমারী হাসপাতাল গেটে নানা চায়ের দোকানে কাজ করেই ২০১৭ সালে সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.০৯ নিয়ে পাস করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। পরে লেখাপড়ার প্রতি আরো আগ্রহ বেড়ে যায় শাকিল রানার। ভর্তি হন রংপুর সরকারি কলেজে। সেখানে টিউশনি করে ২০১৯ সালে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৪.২৫ নিয়ে এইচএসসি পাস করে নিজেকে প্রশাসনিক ক্যাডার করার আগ্রহ বেড়ে যায় তার। জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭২তম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮৩৩ তম মেধাক্রমে উত্তীর্ণ হন। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হতে মনস্থির করেন শাকিল রানা। জাবিতে ভর্তি ফি ৮ হাজারসহ আনুষঙ্গিক মিলে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। ভর্তির টাকা জোগাতে কিছুদিন ধরে নানা আব্দুস সাত্তারের চায়ের দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভর্তির দিনক্ষণ নির্ধারণ হলেও জোগাড় হয়নি প্রয়োজনীয় টাকা। ফলে অর্থের অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তার। নাতির ইচ্ছা পূরণ করতে জাবির ভর্তির টাকা জোগাতে বিভিন্ন এনজিওতে ঋণ নিতে ছুটছেন নানা আব্দুস সাত্তার। সঞ্চয় ছাড়া কোনো এনজিও ঋণ না দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে রোববার "২০ হাজার টাকার কাছে হার মানছে শাকিলের শিক্ষাজীবন"  শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পরই অনেকেই তাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। জাবির প্রো-ভিসি, জাবির বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তি বিকাশে ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যেমে তাকে অর্থ সহায়তা দেন। ওই টাকা নিয়ে সোমবার সকালে জাবি’তে ভর্তির জন্য বাড়ি ছাড়েন শাকিল রানা।

শাকিলের নানা আব্দুস সাত্তার ও বাবা মমিনুল ইসলাম  বলেন, আমরা চিন্তাও করতে পারিনি এভাবে তার ভর্তির টাকা জোগাড় হবে। তার ভর্তির টাকা জোগাড় নিয়ে আমাদের খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল। যারা শাকিলকে সহযোগিতা করেছেন সৃষ্টিকর্তা তাদের মঙ্গল করবেন। 

শাকিল রানা বলেন, সমাজে এখনো ভালো মানুষ আছেন। যারা তার মতো মতো একজন ক্ষুদ্র হোটেল শ্রমিকের স্বপ্ন পূরণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –
শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর