ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামে আরো একজনের মৃত্যু। রংপুর নগরীতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে সিটি কর্পোরেশন।
  • শুক্রবার   ১৬ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে সরকার বসুন্ধরার হাসপাতাল ‘উধাও’ হয়নি, বণ্টন হয়েছে- স্বাস্থ্যের ডিজি রংপুরসহ দেশের তিন বিভাগ ও দুই জেলার একাধিক স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রংপুরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট।

উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় চা উৎপাদন মৌসুম শুরু 

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২১  

পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় চলতি মৌসুমের চা উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। পহেলা মার্চ থেকে বাগানে চা উৎপাদন শুরু হলেও চা-কারখানা চালু হয়েছে মধ্য মার্চে। চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ কেজি।

পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় ১০ হাজার ১৭০ একর জমিতে চা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত চা-বাগান এবং ৭ হাজার ৩১০ জন ক্ষুদ্র চা-চাষি চা উৎপাদন করছেন। গত চা উৎপাদন মৌসুমে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৮ হাজার ৬৮০ একর জমিতে চা চাষ করা হয়েছিল। ৫ কোটি ১২ লাখ কেজি কাঁচা চা-পাতা উৎপাদন হয়। করোনা পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১ কোটি ৩ লাখ কেজি তৈরি চা উৎপাদন হয়।

পঞ্চগড়ের মৈত্রী টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোজাহিদুল হান্নান নিপুন জানান, তাদের চা-কারখানা অনেক বড়। বিক্রম ইন্ডিয়া লিমিটেডের এই চা-কারখানায় দৈনিক ৮০ হাজার কেজি কাঁচা পাতা প্রয়োজন। পঞ্চগড় সদরের করতোয়া চা-কারখানার নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম, তেঁতুলিয়ার ইম্পেরিয়াল টি এস্টেটের ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড় সদরের স্যালিল্যান্ড টি এস্টেটের ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম জানান, চা উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার আলী আহসান প্রধান নাহিদ, জেলার আটোয়ারী উপজেলার সোনাপাতিলা এলাকার ক্ষুদ্র চা-চাষি মতিয়ার রহমান, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পঞ্চগড় জেলা স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন জানান, পঞ্চগড়ে প্রতি বছর চা চাষ ও চায়ের উৎপাদন বাড়ছে। চায়ের গুণমানও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় প্রতি কেজি কাঁচা চা-পাতা ১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন খরচের বিবেচনায় চা-পাতার মূল্য আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, পঞ্চগড়ে চায়ের নিলাম বাজার স্থাপন করা হলে চা-চাষিরা উপকৃত হবে।

পঞ্চগড়স্থ বাংলাদেশ চা বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান, প্রতি বছর পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় চা-আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে। গত বছর ৮ হাজার ৬৮০ একর জমিতে চা-আবাদ করা হয়েছিল। এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৭০ একর জমি।

তিনি আরও জানান, চা-চাষিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। যাতে চা চাষ সম্প্রসারিত হয়। চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান দিতে ইতিমধ্যে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপস চালু, পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ে পেস্ট ম্যানেজমেন্ট ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। চা-চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, রোগবালাই ও পোকা দমনে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –