• মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭

  • || ১৮ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ পৌরসভা নির্বাচন, পঞ্চম ধাপেও আ’লীগের জয়-জয়কার শিক্ষার প্রসারে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৬ মেট্রোরেলে ঢাকার যানজট মুক্তির স্বপ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ৬০ কর্মদিবস পর পরীক্ষা- শিক্ষামন্ত্রী

করোনাকালেও উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় চা উৎপাদনে রেকর্ড

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

২০২০ সালে পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় সমতলের ১০টি চা-বাগান ও ৭ সহস্রাধিক ক্ষুদ্রায়তন চা-চাষির চা-বাগান থেকে ১ কোটি ৩ লাখ বা ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা-উত্পাদিত হয়েছে।

এ বছর চায়ের জাতীয় উত্পাদন হয়েছে ৮৬.৩৯ মিলিয়ন কেজির মধ্যে উত্তরাঞ্চলের সমতলের চা-বাগান থেকে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ জাতীয় উত্পাদনে যুক্ত হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতেও এ বছর চা উত্পাদনে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে।

পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা-বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী (উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায়) জেলার ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত চা-বাগান, ৭ হাজার ৩১০টি ক্ষুদ্রায়তন চা-বাগানে (নিবন্ধিত ১ হাজার ৫১০টি) মোট ১০ লাখ ১৭ হাজার ৫৭ একর জমিতে চা-চাষ হয়েছে। এসব চা-বাগানসমূহ থেকে ২০২০ সালে ৫ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৬ কেজি সবুজ চা-পাতা উত্তোলন করা হয়েছে। যা থেকে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের ১৮টি চলমান চা-কারখানায় ১ কোটি ৩ লাখ কেজি চা উত্পন্ন হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৮৯ একর চা-আবাদী জমি বেড়েছে। আর চা উত্পাদন বেড়েছে ৭ দশমিক ১১ লাখ কেজি।

পঞ্চগড় চা-বোর্ডের আঞ্চলিক অফিস জানায়, পঞ্চগড় জেলায় ১৮টি চা-কারখানা চা উত্পাদন করছে। ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার কাঁচা চা-পাতাও এসব কারখানায় নিয়ে আসা হয়। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব চা-কারখানায় চা উত্পাদন হয়েছে। এরপর থেকে চা-পাতা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে চা উত্পাদন মৌসুম শুরু হবে। পঞ্চগড়ের মৈত্রী টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোজাহিদুল হান্নান নিপুন জানান, পঞ্চগড়ের মৈত্রী টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চা কারখানা এবার উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা উত্পাদন করেছে

পঞ্চগড়ের বাংলাদেশ চা-বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান, সমতল ভূমিতে চা-চাষের জন্য পঞ্চগড় ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। দিন দিন উত্তরাঞ্চলে চা-চাষ ও উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চা-চাষ সম্প্রসারণের জন্য চাষিদের বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চাষিদের স্বল্পমূল্যে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। চাষিদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে’ হাতেকলমে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান দিতে এরই মধ্যে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে একটি মোবাইল ফোন অ্যাপস চালু করা হয়েছে। এ আঞ্চলিক কার্যালয়ে একটি পেস্ট ম্যানেজমেন্ট ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে চা-চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, চাষের নানান রোগবালাই ও পোকা দমনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ বছর ক্ষুদ্র চাষিরা তাদের বাগানের উত্পাদিত কাঁচা পাতার ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় তারা চা-চাষে উত্সাহিত হয়েছে, চা বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বাগানের যত্ন নিয়েছে। এছাড়াও পাতার দাম ভালো পাওয়ায় নতুন নতুন চা আবাদীও বাড়ছে।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –