• বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ২০৬৪ ডলার করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদনে প্রস্তুত দেশের চার কোম্পানি বন্যায় এ পর্যন্ত ১১,৭৫০ টন চাল বিতরণ করেছে সরকার দেশে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা
৫৪৬

করোনা ভয়ে ভীত বিএনপি

প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২০  

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস থেকে নিজেদের সংক্রমণমুক্ত রাখতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্বিতীয় দফায় আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে বিএনপি। এর আগে প্রথম ধাপে ২৫ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল দলটি। সম্প্রতি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি এবং সামাজিক দুরত্ব অনুসরণ করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম/সাংগঠনিক গঠন ও পূণর্গঠন কার্যক্রম আগামী ১৬ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে সীমিত আকারে শুরু করা হবে।

বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের সুশীল সমাজের এক অংশ। তারা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান দ্বিতীয়। এই দুঃসময়ে রাজনৈতিক দলের এমন সিদ্ধান্ত নিতান্তই কাম্য নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে এই সময়ে বিএনপির উচিত ছিলো যতটা সম্ভব জনগণের কাছে পৌঁছানো বা জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো। কিন্তু তা না করে তারা দফায় দফায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করছে। যা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তারা আরো বলেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখনো মাঠে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের সেবায়। তাদের দলের এমপি-মন্ত্রী থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মানুষের সেবা করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে জীবন দিয়েছেন। আর বিএনপির নেতারা সবকিছু বন্ধ করে ঘরে অবস্থান করছেন। ঘরে বসে শুধু সরকারের সমালোচনা করছেন। এখনো পর্যন্ত কোন বড় নেতাকে মাঠে দেখা যায়নি। তাহলে দেশের মানুষ কাদের বিশ্বাস করবে? কাদের হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির একাধিক সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতা বলেন, এখন দেশে করোনা পরিস্থিতি চলছে। এখন রাজনীতি করার সময় নয়। আমরা সবাই সচেতন হয়েই ঘরে অবস্থান করছি। 

তারা আরো বলেন, দলীয় নেতাদের নির্দেশ দেয়া আছে যে যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করবে। জনগণের পাশে দাঁড়াবে এবং নেতাকর্মীরা তাদের নির্দেশনা মেনেই সাহায্য সহযোগিতা করছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত দলের সব সাংগঠনিক গঠন ও পুনর্গঠনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। কিন্তু এই নির্দেশ অমান্য করেই গত ২২ জুন এই স্থগিতের মধ্যেই জনাব আহসানুল্লাহর  মৃত্যুর মাত্র ১৪ দিনের মাথায় কমিটির শূন্যপদ পূরণ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানেও আবার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক নম্বর যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামানকে দায়িত্ব না দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সহ-সভাপতি আব্দুল আলী নকী কে। এ ধরনের কার্যক্রম দলকে প্রশ্নের মুখে ফেলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন নেতা বলেন, কার বুদ্ধিতে এবং কি জন্য দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। একটা বড় দল হিসেবে এই সময় উচিত জনগণের পাশে দাঁড়ানো। জনগণের আস্থা অর্জন করা। কিন্তু তা না করে তারা দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং জনগণ থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে রাখছেন। তাহলে কি আমাদের নেতারা করোনার ভয়ে ভীত হয়ে উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর