ব্রেকিং:
বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে ৮ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ।

শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১০ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
বেরোবি ছাত্রলীগ নেতার মামলায় অপর পক্ষের নেতা কারাগারে। আদিতমারীতে বিদ্যালয়ের মাঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দখলে! এক বছরে রংপুরে ২৮ জঙ্গি গ্রেফতার। ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৪ ধারা জারি। হাইকোর্টের রায় অমান্য করে জমি দখল! ইসরাইলের অবৈধ স্থাপনা সরাতে নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান বাংলাদেশের। এই প্রথম রংপুরে আধুনিক মানের ডাকবাংলো নির্মিত হচ্ছে ছাত্রদলের ১২ ইউনিট কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হলো নীলফামারীতে। বিজিবি-বিএসএফ উচ্চ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক। দুই সিটি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটের শুনানি রোববার। নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগে বাতিল নারী কোটা ইরানি ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরবে বাংলাদেশ- সাকিব নির্বাচনের দিন সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে বাধা। সিটি নির্বাচন: মাঠে থাকবে ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবার বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাবশালী কমান্ডারকে হত্যা।

ট্রেকিংয়ের পূর্ব প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮  

ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ট্রেকিং শব্দটি নতুন নয়। যারা পাহাড় ও ঝরনার সৌন্দর্য্যের বুনো ডাককে অগ্রাহ্য করতে পারেন না তাদের জন্যই ট্রেকিং। দৈনন্দিন জীবনের ঘড়ি বাঁধা রুটিন থেকে বেড়িয়ে একটু প্রকৃতির স্পর্শ নিয়ে চাঙ্গা হওয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে থাকে বছরের এই সময়টায়। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টা ভ্রমণের জন্য বেশ উপযুক্ত। পাহাড়ে ওঠার অভিযাত্রী মন যাদের, তাদের কাছে নেশার অপর নাম ট্রেকিং। অনেকেই আছেন হয়তোবা এ বছরেই নাম লেখাবেন ট্রেকিং এর খাতায়, আর সঠিকভাবে ট্রেকিং সম্পর্কে না জানলে ভ্রমণ আনন্দময় নাও হতে পারে। অনেক সময় ঘটে যেতে পারে কোনো দূর্ঘটনাও।

ট্রেকিং বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। কখনো কয়েক ঘণ্টার তো আবার কখনো কয়েক দিনের। দুর্গম জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পাহাড় পর্বত, ঝর্না ধারা, পিচ্ছিল কাঁদা মাখা ঢালু রাস্তা, টিলা সবই পার হতে হয়। যেখানে যাবেন, সেখানে কোনো কিছুই পাবার নিশ্চয়তা নেই, কোনো সাহায্য পাবার নিশ্চয়তা নেই, বিপদে-আপদে নিজেদের ছাড়া আর কাউকে পাশে পাবেন তারও নিশ্চয়তা নেই। এমনকি সে জায়গা সম্পূর্ণ জনমানবহীনও হতে পারে তাই ট্রেকিং এ যাওয়ার জন্য দরকার বড় ধরণের প্রস্তুতি। নতুন ট্রেকারদের জন্যই এই লেখা –

শারীরিক প্রস্তুতি: ট্রেকিং এ একটা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই হাঁটাহাঁটি ও সিড়ি ওঠার প্র্যাক্টিস করে নিন কেননা ট্রেকিং এ এই দুটি জিনিস ছাড়া এগোতে পারবেন না। তাছাড়া কিছুদিন ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন, এতে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফ্লেক্সিবল হবে। হাত ও পায়ের নখ একদম ছোট করে কেটে নিতে হবে।

 

1.ট্রেকিংয়ের পূর্ব প্রস্তুতি

ব্যাক-প্যাক: প্রথমবার ট্রেকিং অনেক কিছু লাগতে পারে। ব্যাগ যত হালকা হবে ততটা স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারবেন। কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে ব্যাগে যেন অনেক পকেট থাকে। বিভিন্ন টুকিটাকি জিনিস রাখতে পকেট দারুণ কাজ দেবে। ব্যাগে যত বেশি ফিতা থাকবে, তত বেশি ব্যাগের ওজন শরীরে ভাগ হয়ে যাবে এবং এতে ওজন কম মনে হবে। এগুলো লম্বালম্বি ও অনেক শক্ত পোক্ত করে তৈরি করা হয়, যাতে বেশি পরিমাণে জিনিস তুলনামূলক কম কষ্টে বহন করা যায়, আর বিশেষ ভাবে কোমরে ওজন ছড়িয়ে দেবার ব্যবস্থার কারণে কাঁধের উপরে চাপ আসে না বললেই চলে।

 

2.ট্রেকিংয়ের পূর্ব প্রস্তুতি

পোশাক: এমন কোনো পোশাক পড়ুন যা অবশ্যই আরামদায়ক ও সুতি কাপড়ের। পোশাক যেন ট্রেকিংয়ে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায়। ট্রেকিং যেমন রাতে হতে পারে তেমনি দিনেও হতে পারে। রোদ থেকে বাচঁতে সানস্ক্রিন তো অবশ্যই ব্যবহার করবেন, সঙ্গে পোশাকটিও পরুন ফুল হাতা ও হাল্কা রঙের। হালকা রঙ কম রোদ শোষণ করে তাই হালকা রং তীব্র রোদে একটু হলেও স্বস্তি দিবে। রোদে হাত-পা, গলার ত্বক পুড়ে যায় যা ক্লান্তিবোধ বাড়ায়। পানিতে ভিজলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে এমন কাপড় নিতে হবে। পোশাক হিসেবে টিশার্ট এবং থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, থ্রি-কোয়ার্টার স্পোর্টস প্যান্ট বা ট্রাউজার হতে পারে আদর্শ পোশাক। নারীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ট্যুরে সালোয়ার কামিজ এড়িয়ে চলাই ভালো। হ্যাট বা গোল টুপি ব্যবহার করতে পারেন রোদ থেকে বাঁচতে। সঙ্গে একটি গামছা বা পাতলা তোয়ালে জড়িয়ে নিতে পারেন। রোদ চশমা আবশ্যকীয়।

জুতা: কনভার্স, কেডস বা বুট জুতা যেটাই হোক না কেনো, প্রথম শর্ত হবে সেটাতে যেন ভাল গ্রিপ থাকে। জুতার সোলের নিচে যে কাটা কাটা দাগ করা থাকে, এটাই জুতার গ্রিপ। এই গ্রিপ মাটি আঁকড়ে ধরে রাখে। গ্রিপ ভাল হলে কাঁদা মাটি, পিছল যে কোন জায়গায় নিরাপদে হাঁটতে ও উঠে যেতে পারবেন। অবশ্যই সঙ্গে দুই সেট জুতা রাখা ভালো। বুটের পাশাপাশি এক জোড়া স্যান্ডেল যা ট্র্যাকিং বাদে অন্যান্য সময় ব্যবহার করতে পারবেন। সিড়িতে বা পাহাড়ে হাটতে গেলে পায়ের গোড়ালীতে বা পেশিতে টান পড়ে সেজন্য অ্যাংলেট পড়ে নিতে পারেন। সঙ্গে হাঁটুতে নি-ক্যাপ, এগুলো পাহাড়ে ওঠা অনেকখানি সহজ করে দেবে। দামও কম, জোড়া প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা।

 

3.ট্রেকিংয়ের পূর্ব প্রস্তুতি

খাবার: কিছু হালকা খাবার সঙ্গে রাখা জরুরি কিন্তু সেগুলো যাতে হয় দ্রুত শক্তিবর্ধক যেমন- চকলেট (উচ্চ চিনি প্রদায়ক), খেঁজুর (কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি ও চিনি প্রদায়ক), ম্যাংগো বার (মুখকে রসালো রাখতে) নেয়া যেতে পারে; কিন্তু চুইংগাম নয়, কারণ তা গলা শুকিয়ে দেয়। একদিনের বেশি সময়ের ট্রেকিংয়ে হালকা খাবারের পাশাপাশি ভারী খাবার নিতে পারেন এমনকি রান্না করার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখতে হয়। সবচেয়ে ভাল উপায় হল এমন কিছু নেয়া যেগুলো শুকনো, হালকা আর সামান্য কষ্টেই রান্না করা সম্ভব হয়। ইন্সট্যান্ট নুডুলস একটা ভাল উপায় হতে পারে। যারা চা কফি ছাড়া চলতেই পারেন না তারা টি ব্যাগ ও রেডি কফির প্যাকেট বেশ কয়েকটি নিয়ে নিতে পারেন। পানি রাখার পাশাপাশি কিছু বোতলে গ্লুকোজ ও স্যালাইন মিশিয়ে নিন। খাবারের অভাব শরীরকে দুর্বল করে দেবে। এতে পরের দিনের ট্রেকিং এ আরও ক্লান্ত বোধ করবেন। চেষ্টা করুন খাবার সময়মত খেতে। তবে কোনো বেলায়ই ভরপেট খাবেন না এতে শরীর ভারী হয়ে যায়।

ফার্স্ট এইড বক্স: ট্যুরে ছোট খাটো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাটা ছেড়া, রক্তপাত, পা মচকে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য ফার্স্ট এইড কিট সঙ্গে রাখা জরুরি। অ্যান্টিসেপটিক, ব্যান্ডেজ, ক্রেপ ব্যান্ডেজ, জ্বর, পেট খারাপের ওষুধ নেয়া খুব জরুরি। কিছুটা লবণও সঙ্গে রাখা ভালো। পাহাড়ি এলাকা, ঝরণায় জোঁকের বেশ প্রকোপ থাকে। জোঁক ধরার ক্ষেত্রে সামান্য লবণ লাগিয়ে নিতে পারেন যেখানে জোঁক ধরবে। এছাড়া সিগারেটের তামাক ও জর্দা পাতাও জোঁক তাড়াতে কাজে দেয়। খাওয়ার পানি শোধণ করে খাওয়ার জন্য আয়োডিন ট্যাবলেট অবশ্যই সঙ্গে রাখা দরকার। মশা নিরোধক ওডোমোস ব্যবহার করা শ্রেয়। পাহাড়ে সেরেব্রাল ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি, বিশেষ করে বর্ষাকালে। তাছাড়া ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক মেলারোন ও ডোক্সিসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ খেয়ে নেয়া ভালো।

 

4.ট্রেকিংয়ের পূর্ব প্রস্তুতি

অন্যান্য: নাইলনের বা বাঞ্জি দড়ি, দড়ির সঙ্গে কয়েকটি ক্যারাবাইনার ক্লিপ নেয়া যেতে পারে। বিভিন্ন পরিবেশগত ঝামেলা থেকে রেহাই দেবে। ছুরি-চাকু, সুই-সুতো, দড়ি, আগুন জ্বালাবার জন্য উপযুক্ত এমন অনেক কিছুই জরুরি কাজের জন্য লাগতে পারে। রাতে থাকার জন্য অনেক রকম তাঁবু পাওয়া যায়, আবহাওয়া এবং পরিবেশের উপরে নির্ভর করে একেক ধরণের তাঁবু পাওয়া যায়। রাতে চলাফেরা করার জন্য বা কাজে লাগানোর জন্য টর্চ লাইট সঙ্গে রাখা আবশ্যক। আজকাল সোলার চার্জার পাওয়া যায় যেগুলো সহজেই ব্যাগে রেখে দেয়া যায় আর দরকারে মোবাইল ডিভাইস থেকে শুরু করে টর্চ পর্যন্ত চার্জ দেয়া যায় সূর্যের আলোতে। হেড-ল্যাম্প থাকলে ভালো হয়, এতে হাত সম্পূর্ণ ফ্রি থাকে তাই ট্রেকিং এর সময় অন্ধকারে চলাচল অনেক বেশি সুবিধাজনক।

এছাড়া টয়লেট্রিজ যেমন—ব্রাশ, পেস্ট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু ইত্যাদিও সঙ্গে রাখা ভালো। মোবাইল বা জরুরি জিনিসপত্র যেমন ক্যামেরা/মানিব্যাগ এসব যাতে পানিতে ভিজে না যায় বাঁচাতে এক্সটা পলিথিন নিতে পারেন। এছাড়া পথ হারিয়ে যেন না ফেলেন, সেজন্য ম্যাপ, কম্পাস, জিপিএস সঙ্গে রাখতে পারেন। ম্যাপ এবং কম্পাসের ব্যাবহার শিখে নিতে হবে। আর স্মার্ট সেলফোনেও জিপিএস এর ভালো সাপোর্ট থাকে। যেখানেই ঘুরতে যান না কোনো যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবেন না

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –