ব্রেকিং:
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ২ হাজার ৩৫২ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৬৬ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন।
  • সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে এক কোটি গাছ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী করোনার ভুয়া রিপোর্টের ঘটনায় ডা. সাবরিনা গ্রেফতার সরকারি উদ্যোগে সারাদেশে কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট বর্তমান সরকার কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে- কৃষিমন্ত্রী ই-নথি ব্যবস্থাপনায় এবারো শীর্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়
৯৩

ধান পাকলেই মালিক সাজে প্রতারক চক্রঃ ৯৯৯ নাম্বারে সহায়তা চেয়ে ফোন

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৯  

গৃহবধু রিনা বেগমের বাড়ি নীলফামারী সদরের চাপড়া সরমজামী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কুচিয়ার মোড় গ্রামে। এই গৃহবধুর স্বামী আব্দুর রশিদ একজন কায়িক শ্রমিক। বাবার ক্রয় করে দেয়া রিনা বেগমের আবাদী জমি রয়েছে ১০ শতক। ওই জমিতে প্রতি বছর রিনা বেগম আমন ধান আবাদ করেন। ধানের পাশাপাশি আলু, পেঁয়াজ, রসুন বুনেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে রিনা বেগম ওই জমির আমন ধান ঘরে তুলতেই পারেন না। একটি প্রতারক চক্র ধান পাকলেই জমির মালিক সেজে ঝামেলা সৃষ্টি করে জমির ধান কেটে নিয়ে চলে যায়। অসহায় রিনা বেগম ও তার স্বামী হতবাক হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখতে থাকেন। কিন্তু এবার পুলিশের ৯৯৯ কল সেন্টার রিনা বেগমের ধান রক্ষা করে দিয়েছে।

আজ রবিবার(২৪ নভেম্বর) রিনা বেগম সাংবাদিকদের জানায়, গত শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর গড়িয়ে বিকাল নেমেছে। এমন সময় পার্শ্ববর্তী দুই নম্বর ওয়ার্ডের লতিফ চাপড়া গ্রামের চালবাজ দুষ্টচক্র আবু বক্কর(৫৫) ও তার দুই ছেলে আব্দুল আজিজ(২৬) হাবিবুর রহমান(২৩), ইসমাইল হোসেনের দুই ছেলে জাহিনুর রহমান(৪৫) ও আব্দুল কাদের(৫৫), বিগত বছরের ন্যায় এবারও রিনা বেগমের জমিতে নেমে আমনের পাকা ধান কেটে নিতে থাকে। খবর পেয়ে জমিতে ছুটে আসে রিনা বেগম। তিনি ধান কাটতে বাধা দিলে, চালবাজরা পুনরায় জমির মালিকানা দাবি করে রিনা বেগমকে গালিগালাজ ও চড় থাপ্পর মারতে থাকে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী এমন ঘটনায় সোচ্চার হয়ে উঠে। খবর দেয় রিনার স্বামীকে। এরপর এলাকাবাসীর সহয়তায় রিনার স্বামী পুলিশের ৯৯৯ কল দিয়ে, ঘটনা খুলে বলতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় নীলফামারী সদর থানার পুলিশ। পুলিশ আসা মাত্রই প্রতারকরা সব কিছু ফেলে পালিয়ে যায়।

রিনার স্বামী জানায়, ওরা গত দুই বছর ধরে জমির ধান কেটে নিয়েছে। রিনা বেগম বলেন, আমার কোন ছেলে সন্তান নেই। বাবার দেয়া ১০ শতক জমি আবাদ করি। ওরা কয়েকজন চালবাজ চক্র আমন ধান পাকলেই জমির মালিক সেজে জোর পূর্বক ধান কেটে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান মেম্বারদের বললেও তারা শোনে না। এবারও ধান কাটতে থাকে ওরা। এলাকাবাসীর সহায়তায় আমার স্বামী পুলিশের ৯৯৯ নম্বর কল দিলে, পুলিশ এসে আমার জমির ধান রক্ষা করে দিয়ে গেছে। পুলিশ আসার কারনে ওই চালবাজরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় একটি চালবাজ চক্র সৃষ্টি হয়েছে। যারা অসহায় গরীব এমন মানুষের জমির ধান দেখলে, তারা মালিক সেজে ধান কেটে নেয়ার চেষ্টা করে। রিনা বেগম অসহায়। তার জমিতেও এই চালবাজ চক্র বার বার হানা দেয়। কিন্তু এবার দিতে এসে ফায়দা লুটতে পারেনি।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মমিনুল ইসলাম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা রিনা বেগমকে মামলা দিতে বলেছি। আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –