ব্রেকিং:
বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে চলবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  • বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭

  • || ১৯ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
পোশাক খাতে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে মানবদেহের প্লাজমা প্ল্যান্ট নির্মাণ শুরু দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে `বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা` আইসিজেতে বাংলাদেশকে দেয়া সহায়তা অব্যাহত রাখবে ওআইসি নারীদের জন্য ‘বঙ্গমাতা পদক’

নান্দনিক শিশু পার্ক নির্মাণ করছেন খানসামার ইউএনও

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২১  

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণ করা হচ্ছে নান্দনিক শিশু পার্ক। এতে শোভা পাচ্ছে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির ম্যুরাল। পার্কটিকে ঘিরে শিশু ও অভিভাবকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ পার্ক নির্মাণ হচ্ছে। পার্কটিতে খেলনার পাশাপাশি শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির ম্যুরাল। এছাড়া পার্কের বিভিন্ন স্থানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে সেবা গ্রহীতাদের জন্য বক চত্বরসহ বসার জন্য করছেন টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চ। পার্কে শিশু ও দর্শনার্থীরা বিনোদন ও ঘোরাফেরার সঙ্গে সঙ্গে পরিচিত হিতে পারবেন হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন পশু-পাখির ছবির সঙ্গে।

সরেজমিনে পার্ক ঘুরে দেখা যায়, পার্কে প্রবেশের সময় শিল্পী ও ফটোগ্রাফারের ম্যুরাল আগতদের ছবি তুলছে আর সম্বোধন জানাচ্ছে। পার্কের মাঝে দুইটি হরিণ দাঁড়িয়ে আছে আর তাদের একটি বাচ্চা ঘাস খাচ্ছে। তার আগে পাঁচটি বক দিয়ে নির্মিত বক চত্বরের পাশে রয়েল বেঙ্গল টাইগার মুখ হা করে হরিণের দিকে তাকিয়ে আছে। পশ্চিম-উত্তর দিকে আড়াআড়িভাবে সাজানো রয়েছে হাতি, জিরাফ, ঘোড়া, প্রজাপতি ও সিংহের ম্যুরাল। উত্তর-পূর্ব দিকে উটপাখি, ক্যাঙ্গারু ও ছবি তোলার জন্য নির্মিত রাস্তার দুই পাশে দুটি পেঙ্গুইন। পূর্ব দিকে ড্রাগন ও ডাইনোসর মুখোমুখি অবস্থানে। তাদের সামনে কলা খাওয়া অবস্থায় বানর ও স্যালুট অবস্থানে গরিলা। 

বানর ও গরিলার দক্ষিণ পাশে আড়াআড়িভাবে তিনটি জেব্রা পূর্ব-দক্ষিণ হয়ে পশ্চিমের দিকে গাছের নিচে সাজানো, মুখোমুখি অবস্থানে সাদা ও লালচে কালারের চারটি সারোস, ডালের নিচে বসা চারটি টিয়া, পাখা মেলে বসে আছে দুইটি ময়ূর, একটি হাঁসের কার্টুনের বাদ্যযন্ত্র বাঁজানোর তালে তালে নাচ অবস্থায় দুইটি হাঁসের কার্টুন, জাতীয় পাখি দোয়েল ও মা হাতির মুখের দিকে তাকিয়ে ছোট শাবক। এছাড়াও নির্মাণ করা হচ্ছে উড়ন্ত ঈগল পাখির ম্যুরাল। পশু-পাখির সমারোহ ছাড়াও শিশুদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে রাউন্ড দোলনা, ঘোড়া রাউন্ড দোলনা, স্লিপার। ঘুরার জন্য রয়েছে সৌন্দর্যময় টাইলসের রাস্তা। আর বসার জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চ।

উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ছুটির দিনে ও অফিস করে অবসর সময়ে পার্কে গেলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। মনটা আনন্দময় হয়ে উঠে। বিকালের দিকে বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করা যায়। এরকম একটি নান্দনিক শিশু পার্ক গড়ে তোলার জন্য ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান তারা।

আগত দর্শানার্থীরা বলেন, ‘শিশুপার্কের নতুন নতুন স্থাপনা ও ম্যুরাল দেখে অনেক ভাল লাগছে। এখানে শিশুদের পাশাপাশি আগত সেবাগ্রহীতা ও দর্শানার্থীরা অবসর সময় কাটাতে পারবে। ভালই লাগবে। একজন কর্মকর্তা সুন্দর মানসিকতার মানুষ না হলে এরকম উদ্যোগ নিতে পারে না। এমন সুন্দর একটি উদ্যোগ নেওয়ায় ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ জানাই।’

ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, শিশুদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ধরনের একটি পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ শিশু পার্কে বিভিন্ন প্রাণীর ম্যুরাল ও রাইড স্থাপন করা হয়েছে এবং আরো কিছু নতুন নতুন রাইড স্থাপন করা হবে। এর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, নির্মাণ কাজ শেষে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশুরা এখানে এসে সুন্দর সময় কাটাতে পারবে। যা তাদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে আগত সেবাগ্রহীতারাও এখানে অবসর সময় কাটাতে পারবে।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –