রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

১৩৪

নির্বিচার খনন থেকে পঞ্চগড়ের পরিবেশ রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

প্রকাশিত: ৬ মে ২০১৯  

পঞ্চগড় জেলায় অবৈধভাবে ড্রিল, ড্রেজার বা বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে পাথর উত্তোলন, তবে বন্ধ হচ্ছে না। ড্রেজারের সাহায্যে ৮০-১২০ ফুট গভীর থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে মাটির নিচে সৃষ্টি হচ্ছে শূন্যতা। এর ফলে ভূমিক্ষয়, ভূমিধস, ভূমিকম্পসহ কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপর্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। আবার অল্প মাত্রার ভূমিকম্পেই হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ক্ষতি। কারণ মাটির নিচের পাথর থাকলে ভূমিকম্পকে সহনীয় করে তোলে।

স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা অনেক প্রভাবশালী। তাদের কাছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও যেন হার মানছে। ব্যবসায়ীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করে; তা না হলে তারা যথেচ্ছভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট করছে, অথচ প্রশাসন কিছুই করছে না। দায়সারাভাবে যেন কাজ করছে প্রশাসন। দেখেও যেন না দেখার ভান করছে। প্রশ্ন থেকে যায় স্থানীয় প্রশাসনের এতে সুবিধা কী? তারা কী ধরনের মওকা পাচ্ছে? সুযোগ-সুবিধা না পেলে প্রশাসনের চুপ করে থাকার কথা নয়। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ ব্যাপারে নিয়মিতই অবাধ ড্রেজিং নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন এবং মাঝেমধ্যে টাস্কফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানও পরিচালনা করছে। তবুও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন।

এর প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। ‘ড্রেজার হটাও, পঞ্চগড় বাঁচাও ড্রেজারমুক্ত পঞ্চগড় চাই’ দাবিতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগগুলো দীর্ঘদিন ধরে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করে আসছে। উচ্চ আদালত সারা দেশে ড্রিল, ড্রেজার বা বোমা মেশিন দিয়ে পাথর ও বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর, দেবীগঞ্জ ও আটোয়ারী উপজেলার ডাহুক, করোতোয়া, তালমা, সাওসহ বিভিন্ন নদী, সরকারি খাসজমি ও লিজ নেওয়া জমি থেকে তিন শতাধিক বোমা মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার হেক্টর আবাদি সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। পাথর তোলার পর এসব জমি পতিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে গত ১০ বছরে এই জেলায় প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার টন খাদ্যশস্য কম উৎপাদিত হচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, ভূমিক্ষয় ও ভূমিকম্প রোধ, ফসল উৎপাদন বাড়ানো, সরকারি সম্পত্তি রক্ষাসহ আরও নানা কারণে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি।

শতাব্দী জুবায়ের
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর