• রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হরিজনদের সুখের নীড়, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন     

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৩  

 
আমরা চিলমারী বাজারে সরকারি জমিতে ছিলাম। টিনের ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি বিছানায় পরতো। নতুন বাড়ি তৈরি করার মতো টাকাও ছিল না। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের জমি দিয়েছে, পাকা ঘর করে দিয়েছে। আমরা অনেক খুশি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত কছিলেন হরিজন পল্লীর বাসিন্দা প্রদ্বীপ বাসফোর। ২ ছেলে, ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মোট ৬ জনের পরিবার নিয়ে আবাসন প্রকল্পে বসবাস তার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। এজন্য তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা এখন সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারছি। তিনি আমাদের ভাগ্য বদল করে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া এলাকায় হরিজন পল্লী হিসেবে দেশের প্রথম আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ৩০টি হরিজন পরিবারকে নিজেদের নামে জমি দিয়ে পাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে।

চিলমারীর ওই আবাসন প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত ৩০টি ঘরের মধ্যে ১০টি ঘরে পরিবারের বসতি শুরু হয়েছে। বাকি পরিবারগুলো একে একে তাদের বাড়ি ভেঙে আসতে শুরু করেছেন।

ঘরবাড়ি না থাকা মানুষগুলোর নিজস্ব জমি এবং স্থায়ী ঘর পেয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিশ্চিত ভবিষ্যতের স্বপ্নও বুনতে শুরু করেছেন কেউ কেউ।

সুনিল বাসফোর (২৮) বলেন, আমরা আগে সরকারি জমিতে অস্থায়ী ভাবে ছিলাম। বসবাস এবং জীবন ছিলো অনিশ্চিত। সন্তানদের জন্য কিছু ভাবতে পারিনি। সমাজের বাকি মানুষেরা আমাদের দিকে নিচু চোখে তাকায়। এখন আমার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবো। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বো। এর প্রধান কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর।'

আরেক পরিবারের সদস্য মিনি বালা (৩০) বলেন, আমাদের নিজেদের নামে জায়গা ছিলোনা। এখন জমিসহ বাড়ি পেয়েছি। আমরা আমাদের সংসার নতুন করে শুরু করবো। বাড়ির পাশে গাছ রোপণ করবো।

হরিজনদের জন্য উপহারের ঘর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সদ্য বিদায়ী চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনে বদলি হওয়া এই কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে উপজেলার হরিজন সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর দুর্দশার কথা জানতে পারি। এরপর ওই পরিবারগুলোর থাকার পরিবেশ দেখতে তাদের বাড়িঘর পরিদর্শন করি। যে পরিবেশে তারা বসবাস করত, তাকে মানবিক বলা চলে না। বিষয়টি আমার মনে আঁচড় কাটে। কিন্তু তাদের ঘর করে দেওয়ার মতো খাসজমি পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন তাদের জন্য জমি কিনে আশ্রয়ণের ঘর করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিকল্পনা পাঠাই। পরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সেটি অনুমোদনের ব্যবস্থা করেন। এরপর জমি কিনে ৩০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিই।'

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, চিলমারীর ৩০টি হরিজন পরিবারকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করেছেন। এসব পরিবারকে সমাজের মূলধারাতে আনার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য শিক্ষকের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নারীদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং পুরুষদের জন্য ঋণসুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা জেলার সব উপজেলায় বসবাসকারী হরিজন, রবিদাস সম্প্রদায় ও ট্রান্সজেন্ডার মানুষের আবাসনের উদ্যোগ নিচ্ছি। তারা যেন সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে মিলেমিশে দেশের অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া এলাকায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১ একর জমি কিনে এই পল্লী গড়ে তোলা হয়েছে।এবং এসব ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –