ব্রেকিং:
স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে রংপুর জেলায় প্রায় ছয় হাজার মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মসজিদে মসজিদে এসব ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মহিউদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ঈদের সকালে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ১০ মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে অর্ধশত ঘরবাড়ি। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ
  • মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
আজ মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। লালমনিরহাটে ঈদের সকালে ১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি রংপুরে ছয় হাজার মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তী আজ
২৪

প্রসূতির আঁকুতি পৌছালো না ৪ হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২০  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের মিয়াজিপাড়া গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক শরিফুল ইসলাম বাঁচাতে পারলেন না তার গর্ভবতী স্ত্রী সুজিনা বেগম (২৮) কে। এই হাসপাতাল ওই হাসপাতাল ঘুরে আর দালালদের চক্করে ক্লিনিকে গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। অসহায়ভাবে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হলো এই নিরিহ গৃহবধূটিকে। স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির কারণে তার অকাল মৃত্যু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রসব বেদনা ওঠায় সুজিনাকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার খালা শ্বাশুরী আমিনা বেগম। সেখানে আড়াই ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের লোকজনের পরামর্শে তাকে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক আখতারুন্নাহার মেমোরিয়াল হাসপাতালে ৭০০ টাকায় ভর্তি করা হয়। সিজার করা হবে বলে একগাদা ঔষধও কিনতে বাধ্য করা হয় শরিফুলকে। সেখানে রাত্রি যাপনের পর পরদিন বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) দুপুরে সুজিনার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিজার না করে ক্লিনিকের লোকজন ৮০০ টাকায় একটি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তড়িঘরি করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সুজিনার সংসারে ৮ বছরের একটি পূত্র সন্তান রয়েছে। 

এদিকে ক্রমেই সুজিনার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তখন তার যেনতেন অবস্থা। এই চরম মূহুর্তে হাসপাতালের একটি দালাল চক্র শরিফুলকে ফুসলিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে পাশর্^বর্তী বেসরকারি ক্লিনিক গ্রীণ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে ২ হাজার ৩৫০ টাকা রফায় সুজিনাকে ভর্তি করা হয়। সাথে সিজারের কথা বলে একগাদা ঔষধ কিনতে বাধ্য করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সুজিনার অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে পূণরায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই প্রসূতি নারীটি মৃত্যুবরণ করেন। রাতেই স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

নিহত সুজিনার স্বামী শরিফুল ইসলাম বলেন, ডাক্তারগো হাতপায়ে ধরলাম। এই হাসপাতাল ওই হাসপাতাল ঘুরলাম। টাকাও খরচ করলাম। কিন্তু হেরা আমার স্ত্রীকে বাঁচাতে কেউ অপরারেশনডা করল না।

সুজিনার খালা শাশুড়ি আমিনা বেগম জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তাররা আমার ভাগ্নি বউকে একটা ইনজেকশন দিল তারপর তারা জানায় সে মারা গেছে। 

এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিষযটি আমার জানা নেই, তবে এমনটা হওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে আখতারুন্নাহার মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ডা. এরশাদুল হক চাঁদ বলেন, রাতে রোগী ভর্তি হলে সকালের দিকে প্রেসার বেড়ে যাওয়ার সাথে খিঁচুনি শুরু হয়। এ অবস্থায় আমাদের এখানে সিজার করা সম্ভব ছিল না। পরে দুপুরে গাড়ি ভাড়া করে তাকে কুড়িগ্রামে প্রেরণ করেছি।  

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেদওয়ান ফেরদৌস সজিব জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –
নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর