ব্রেকিং:
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ৩ হাজার ২৬৭ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৫৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৪ জন।
  • বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২১ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ কামাল ছিলেন নির্লোভ, নির্মোহ- কাদের মুক্তি পেলো বঙ্গবন্ধুর উক্তি নিয়ে চলচ্চিত্র ‌‘চল যাই’ বন্যায় এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে করোনায় আরো একজনের মৃত্যু
২০

ভার্চ্যুয়াল জগতে প্রবেশ করলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত 

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২০  

ভার্চ্যুয়াল বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাইক্রোসফট টিমস অ্যাপের মাধ্যমে একে একে যুক্ত হলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি। এর মাধ্যমেই ভার্চ্যুয়াল জগতে প্রবেশ করলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত । তাই এই দিনটি দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার আদালতের কার্যতালিকায় থাকা ২০টি মামলার মধ্যে দুটির ওপর শুনানি নিয়ে আদেশ দেন আদালত। ১৬ জুলাই সকাল দশটা থেকে বেলা সোয়া একটা পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চের অপর পাঁচ সদস্য হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।


কার্যক্রম শুরুর পর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জুডিশিয়ারির জন্য আজ ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আইন (আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন) হয়েছে, সে জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিয়েছেন, সে জন্য কৃতজ্ঞতা। এ বিষয়ে সচেষ্ট ভূমিকার জন্য আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এ আইনের মাধ্যমে ডিজিটালি বিচার বিভাগ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ভার্চ্যুয়াল কোর্ট স্বাভাবিক কোর্টের বিকল্প নয়। পরিস্থিতির উন্নয়ন হলে স্বাভাবিক কোর্টের কার্যক্রমে ফিরে যাওয়া হবে। 
এই যাত্রা সফল হবে, এমন আশা ব্যক্ত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপিল বিভাগে যারা বিচারক আছি, আমরা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। কার্যক্রম (ভার্চ্যুয়াল কোর্ট) স্বাভাবিকভাবে চললে সপ্তাহের পাঁচ দিনই কোর্ট (ভার্চ্যুয়াল) পরিচালনার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি।’ 


এর আগে শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আজ বিচার বিভাগের জন্য ঐতিহাসিক দিন। বিশ্বব্যাপী মহামারির কারণে আদালত বসতে পারেননি। ১২ মে থেকে হাইকোর্টে ভার্চ্যুয়াল কার্যক্রম শুরু হয়। হাইকোর্ট বিভাগ সার্থকভাবে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট চালিয়ে যাচ্ছেন। ৬৩ কার্যদিবস আপিল বিভাগ বসতে পারেননি। আজ ১৩ জুলাই কার্যক্রম শুরু হলো। বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির যে উন্নয়ন, আমরা তাতে আজ শামিল হলাম।’


এর পরপরই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘মহামারির মধ্যে মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়, সেখানে বিচার বিভাগের কার্যক্রমে চলছে, আমরা অংশ নিতে পারছি, সে জন্য প্রধান বিচারপতিসহ আদালতের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৩৬ জন আইনজীবী মারা গেছেন। তাঁদের অনেকের করোনা ছিল, অনেকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। কথা দিচ্ছি, আইনজীবী সমিতি আদালতের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। তবে কোনো আইনজীবী অনুপস্থিতি থাকলে যাতে সময় দেওয়া হয়, তাদের মামলা যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে নিবেদন রাখছি। 


এরপর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে কোন দিন (বার) কোন আবেদনের শুনানি হবে, আদালতের বিরতির সময় নির্ধারণ, আবেদন আপলোড করা, আদালতের ছুটি কমানো ও আপিলের সারসংক্ষেপ যথাযথভাবে দাখিল করার বিষয়ও আলোচনায় ওঠে।


কার্যতালিকায় থাকা পৃথক দুটি সিভিল আপিলের (কার্যতালিকার ২ ও ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা) ওপর শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেন। এর মধ্যে দুই নম্বর ক্রমিকে থাকা মামলাটিতে আপিলকারী পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। এই মামলায় অপর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা মামলায় আপিলকারী পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ পৃথক দুটি আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এ ছাড়া একাধিক মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবীদের সময়ের আরজি জানাতে দেখা যায়। ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজ উদ্দিন ফকির যুক্ত ছিলেন।


শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আজ প্রথম দিনেই বড় সফলতা। পূর্ণ সময় ধরে আদালতের কার্যক্রম চলেছে। আপিলের ওপর পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়েছে। এক দিনে দুটি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে। সাধারণত একটি আপিল নিষ্পত্তির জন্য দু-তিন দিন চলে যায়।...আজ এখানেই শেষ করছি, সবাইকে ধন্যবাদ।’

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –
আদালত বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর