• বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৭

  • || ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণসহ মজবুত করে তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে তিন ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে সাবেকরাই ফের নির্বাচিত নির্বাচনে ব্যর্থতার জন্য বিএনপি নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত: কাদের হাতীবান্ধার দুই ইউপিতে নৌকা নিয়ে `বাবার চেয়ারে` বসলেন ছেলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করেও খালেদার গৃহবন্দির অভিযোগ!

রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহ্যগত কোনো অর্জন নেই

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০  

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহ্যগত কোনো অর্জন নেই। বিএনপি রাতের আঁধারে দল গঠন করে পোড়া লাশের গন্ধের রাজনীতি করে এটাই তাদের ঐতিহ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, নামমাত্র গণমানুষের রাজনীতি করে নিজেরদের স্বার্থ হাসিল করা আর সরকারের সমালোচনা করাই হলো বিএনপির একমাত্র অর্জন। 

তারা বলেন, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে ছিলো। কিন্তু সে সময় বিএনপি তাদের সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা জনগণকে সহযোগিতার নাম করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে লোক দেখানো কিছু ত্রাণ সহায়তা করেছে। দেশের মানুষ বিএনপির সেই প্রতারণা বুঝতে পেরেছে। এজন্য দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর জিয়াউর রহমান হন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। ১৯৭৭ এর ২১ এপ্রিল বিচারপতি আবু সাদাত সায়েমকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে হয়, জিয়া তখন ওই দায়িত্বও নেন। সে সময় জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টায় একটি গণভোটের আয়োজন করেন।

সামরিক আইন প্রশাসক থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে একটি ডানপন্থি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়। তবে সে দল তখন দেশের রাজনীতিতে নাড়া দিতে পারেনি। 

ওই বছর ১ মে জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ ঘোষণা করা হয়। রাতারাতি পুরাদস্তুর রাজনীতিবিদ বনে যান জিয়া। ৩ জুন নির্বাচন দিয়ে ওই ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি ‘নির্বাচিত’ হন।
 
নির্বাচনের তিন মাসের মাথায় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
 
জাগদল, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বাধীন ন্যাপ, আবদুল হালিম-আকবর হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, আব্দুল মতিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি ও শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগ বিলীন হয় জিয়ার বিএনপিতে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। ২০১০ সালে সপ্তম সংশোধনী বাতিলের রায়ে জিয়ার ক্ষমতাগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত।
 
জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার এক বছরের মধ্যে রাজনীতিতে নেমেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদ নেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তখন বিএনপির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। 

সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ ১৯৮২ সালে বিএনপি হটিয়ে ক্ষমতা দখল করলে সাত্তারের অসুস্থতার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের পদ নিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া। তারপর ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন তিনি।
 
সেই থেকে খালেদা জিয়া এই পদে আসীন রয়েছেন।  নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের পর ৫ বছর সংসদের বাইরে থাকতে হয় বিএনপিকে। কয়েক দফা সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেও সফল হননি খালেদা। 
 
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাজায় খালেদা কারাগারে গেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ছেলে তারেক রহমান। তিনি গত এক যুগ ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে দেশে তিনটি মামলায় তার সাজার রায় এসেছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। তাতে চরম ভরাডুবির পর সরকারের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও পরবর্তীতে তাদের নির্বাচিত প্রার্থীরাও সংসদে যোগ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ছেড়ে আসা একজন নেতা বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিএনপির রাজনৈতিক কোনো অর্জন নেই বললেই চলে। কেননা তারা রাজনীতি করে নিজেদের স্বার্থের জন্য, জিয়া পরিবারের জন্য। জনগণের জন্য রাজনীতি না করায় জনগণও তাদের সমর্থন করে না। কর্মসূচির নামে মানুষ হত্যার রাজনীতি করায় জনগণও তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –