বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৭ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

লালমনিরহাটে দিনভর কর্মবিরতির দোহাই, রাতে গোপনে চলছে তেল বিক্রি

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

দিনভর কর্মবিরতির দোহাই দিয়ে তেল বিক্রি বন্ধ রাখলেও রাতে বিক্রি শুরু করলে প্রচণ্ড ভিড় পড়ে যায় লালমনিরহাটের ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে। 

রোববার (১ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১০ টার দিকে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের আদিতমারী উপজেলার ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে সকল ধরনের তেল বিক্রি করতে দেখা যায়। 

এর আগে রোববার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে দেশের তিনটি বিভাগের ন্যায় লালমনিরহাটেও জ্বালানী তেল বিক্রি, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রেখে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করে পেট্রোলপাম্প ও ট্যাংকলরী মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি শুরু হলেও বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ও ট্রাংকলরী মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক বিষয়টি জানেন না বলে জানান। তবে সোমবার (২ ডিসেম্বর) আলোচনা ফলপ্রসু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। হলেও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে। প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে। 

এদিকে দিনভর পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় গ্রামের হাট বাজারে গড়ে উঠা তেল বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা গোপনে পাম্পগুলো থেকে ন্যাজ্ব মুল্যে তেল ক্রয় করে অতিরিক্ত মুল্যে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয় ক্রেতারা অভিযোগ করেন। অতিরিক্ত টাকা দিলে খুচরা দোকানে তেল মিলে অন্যথায় মিলে না। তাই বাধ্য হয়ে ক্রেতারা অতিরিক্ত মূল্যে খোলা বাজার থেকে জ্বালানী সংগ্রহ করছেন। এভাবেই তেল নিয়ে শুরু হয়েছে তেলেসমাতি কারবার।

ক্রেতারা জানান, পেট্রোল প্রতি লিটার খুচরা দোকানে একশত থেকে ১২০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে লিটার প্রতি ১৫/৩৫ টাকা অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। প্রতিবাদ করলে তেল মিলছে না বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। জেলার প্রতিটি হাট-বাজারে রয়েছে অসংখ্য খোলা বাজারের তেল বিক্রয় কেন্দ্র। এসব বাজারে বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামের তেল। 

পেঁয়াজ সংকটের কারণে দাম বৃদ্ধির পর আর সহনীয় পর্যয়ে না আসায় তেলের বাজারেও এমন মূল্য বৃদ্ধির আশংকায় তেল ক্রয়ের পরিমানও বেড়েছে। রোববার (১ ডিসেম্বর) রাত ১০ টার দিকে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের আদিতমারী ফাতেমা ফিলিং স্টেশন তেল বিক্রি শুরু করলে মানুষের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই তেলের পাত্র ভরে তেল নিয়ে যাচ্ছেন। পাম্পের পুরো মাঠ ভরে উঠে তেল নিতে আসা বিভিন্ন যানবাহন। 

তবে ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বিমল চন্দ্র বলেন, বিক্রি বন্ধই রয়েছে। তবে মালিকের কিছু গাড়িতে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা এলে তাদের কাছেও ন্যায্য মুল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কেউ তেল পাত্রে নিয়ে গিয়ে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি তার জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল হাকিম বলেন, কর্মবিরতি প্রত্যাহার হয়নি। তবে তার পাম্পে তেল বিক্রির বিষয়টি তার জানা নেই। 

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প   ও ট্রাংকলরী মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলার ২৩টি ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বিপণন ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবে কেউ গোপনে তেল বিক্রি করলে তা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) পুনরায় বৈঠক রয়েছে। সেখানে ফলপ্রসু আলোচনার সম্ভবনা রয়েছে। আলোচনা ফলপ্রসু হলেই সারা জেলায় একই সঙ্গে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে। 

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর