ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামে আরো একজনের মৃত্যু। রংপুর নগরীতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে সিটি কর্পোরেশন।
  • শুক্রবার   ১৬ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে সরকার বসুন্ধরার হাসপাতাল ‘উধাও’ হয়নি, বণ্টন হয়েছে- স্বাস্থ্যের ডিজি রংপুরসহ দেশের তিন বিভাগ ও দুই জেলার একাধিক স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রংপুরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দোহাই দিয়ে মারুফ কামালকে অব্যাহতি, নেপথ্যে ফখরুল! 

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২১  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত ও দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কড়া সমালোচনার অজুহাত তুলে মারুফ কামাল খানকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তবে জানা গেছে, মারুফকে সরানোর মূল কারণ দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা নয়, মূলত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরই তার অনুগত নেতাদের সরিয়ে বিএনপিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একক রাজত্ব কায়েমের রাজনীতির বলি হয়েছেন মারুফ কামাল খান।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে মির্জা ফখরুলের রহস্যময় ভূমিকার কারণে বিভিন্ন সময় তার বিরোধিতা করতেন মারুফ কামাল খান। খালেদা কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন আর দলের স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য পিকনিক মুডে দিন কাটিয়ে যাচ্ছেন বিষয়টি ভালোভাবে দেখতেন না মারুফ কামাল। তাই বিএনপিকে রাজনীতিতে ফেরাতে দলের দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে বলতেন। করোনাকালে মির্জা ফখরুল ঘরে বসে থাকলেও ২০-৩০ জন কর্মী নিয়ে হলেও রাজপথে সরব থাকতেন রুহুল কবির রিজভী। বিষয়টি উল্লেখ করে মারুফ কামাল প্রায় সময়ই খালেদা জিয়াকে বলতেন, রিজভী দুঃসময়ের নেতা। বিএনপিকে আন্দোলনের ট্র্যাকে ফেরাতে হলে রহস্যময় মির্জা ফখরুলের জায়গায় রিজভীকে নিয়ে আসা উচিত।

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে খালেদাও পজিটিভ ছিলেন। কিন্তু দলের সব সিদ্ধান্ত তার হাতে নেই উল্লেখ করে মারুফকে তার অসহায়ত্বের কথা বলতেন খালেদা।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের বাসভবন ফিরোজার এক কর্মকর্তা বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মারুফ কামাল খান। তিনি খালেদার খুবই বিশ্বস্ত। তাই ২০০৯ সালে তাকে চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকেই দলের ভেতরে একটি পক্ষ তাকে সরাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছিল। এতদিন তারা সফল হয়নি। কিন্তু রিজভী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরই সুযোগ নেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপিতে নিজের ক্ষমতার বলয় সুরক্ষিত করতে দলের সিদ্ধান্ত না মানার কথা বলে মারুফ কামালকে সরালেন তিনি। বিষয়টিকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে অভিহিত করে ওই কর্মকর্তা বলেন, দুঃসময়ে যারা দলের জন্য নিরলস কাজ করেছেন তাদের এভাবে সরিয়ে দিলে বিএনপির কর্মীরা আরো হতোদ্যম হয়ে পড়বেন। মারুফ কামালের অব্যাহতির বিষয়টি খুবই খারাপ প্রভাব ফেলবে।

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মারুফকে অনেক দিন ধরে চিনি। সে ভদ্র-মার্জিত ছেলে। দলের জন্য নিবেদিতও। কিন্তু তাকে কেন অব্যাহতি দেয়া হলো তা আমার বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, বিগত দিনে বিএনপির অনেক কাজেরই সমালোচনা করেছি আমি কিন্তু সেগুলো দলটির ভালোর জন্যই। এখন দলের ভালোর জন্য কথা বলে যদি মারুফ কামালের মতো ত্যাগী লোককে অব্যাহতি পেতে হয়, তাহলে বলতেই হবে বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে ভালো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আমি মনে করি, বিএনপির অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক উপায়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। যদি দলের ভেতরেই গণতন্ত্রের চর্চা না থাকে তাহলে গণতন্ত্রের আন্দোলনে জনগণ কীভাবে বিএনপির প্রতি আস্থা পাবে?

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –