ব্রেকিং:
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণিতে পরীক্ষা ছাড়াই অটো প্রমোশন (পাস) দেয়া হবে মর্মে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। বিষয়টি ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
  • বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৫ ১৪২৭

  • || ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনা দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে- প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি নায়িকাকে কুপ্রস্তাব দিল ভারতীয় পরিচালক! এখনো বাতিল হয়নি এশিয়া কাপ- পিসিবি মাইক্রোসফট রিসার্চ ডেসার্টেশন গ্রান্ট পুরস্কার পেল দুই বাংলাদেশি করোনা শনাক্তে প্রতারণায় কঠোর অবস্থানে সরকার- কাদের
৩৬

হাসি খুশি নিয়ে ধান কাটা মাড়াই-এ ব্যস্ত পঞ্চগড়ের কৃষকরা 

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২০  

হাসি খুশি নিয়ে ধান কাটা মাড়াই-এ ব্যস্ত পঞ্চগড়ের কৃষকরা। তবে এবার  লম্বা শীতের কারণে ধানের আবাদে কিছুটা বিলম্বিত হওয়ায়, অন্য দিকে চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারনে ধানের ফলন, মৃল্য ও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন পঞ্চগড়ের কৃষকরা। কিন্তু পাকা ধান ঘরে উঠার আগেই দেখা যাচ্ছে তার উল্টো চিত্র।

পঞ্চগড়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে অপর দিকে বাজারে ধানের ন্যয্য দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। তাই উদ্দাম গতিতে চলছে ধান কাটা মাড়াই, আর ব্যাস্ত সময় পার করছে কৃষাণ,কৃষাণীরা। তবে গত দুই বছরে ধানের দাম নাপেয়ে লোকশানের ছিলেন কৃষকরা।

এবারে ভারা মৌসুমে বাজারে শুরুতেই ধানের ন্যয্য দাম পেয়ে অতি লাভের মুখ দেখছেন তারা। তবে ধানের বাজার এরকম থাকলে আগামিতে ধান চাষে বেশি আগ্রহী হবে। বোর ধান চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষকদের মাঝে পরামর্শসহ কারিগরি নির্দেশনা দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।


কৃষি প্রধান জেলা পঞ্চগড়ে পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোর ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও হয়েছে বাম্পার, ফলনের পাপশপাশি এবার ধানের মুল্য পেয়ে কৃষরা খুশি। তাই উদ্দাম গতিতে চলছে ধান কাটা মাড়াইর কাজ। আর ধান কাটা মাড়াই নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছে কৃষাণ,কৃষাণীরা । তবে গত দুই বছরে ধানের দাম না পেয়ে লোকশানে ছিলেন কৃষকরা। এর ফলে অনেকেই ধানের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্য আবাদে ঝুকে পড়েন। চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ২৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে।

গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ কম হয়েছে । ধানের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১লক্ষ ২৮ হাজার মেট্রিক টন। জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে বেশি ধানের আবাদ হয় বোদা ও দেবীগ্ঞ্জ উপজেলায়। ব্রি-ধান ২৮ বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মন, আর হাইব্রিড জাতের ধান হয়েছে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ২৮ মন। । তবে ধানের আবাদ কমলেও এবার বেড়েছে দাম। এবার শুরুতেই ধান ভেদে বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা। যা গত বারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন। অপর দিকে সরকারী ভাবে ধান সংগ্রহের কর্যক্রম শুরু হয়েছে। লটারীর মাধ্যমে ভাগ্যবান অনেকে কৃষক সরকারী খাদ্য গুদামে প্রতিমন ধান বিক্রি করছেন ১হাজার ৪০টাকায়। তবে গত ২ বছরে তুলনায় এবার ধানের দাম পেয়ে অতি লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ধানের বাজার এরকম থাকলে আগামিতে ধান চাষে কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহী হবে এমন আশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। 
বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, এবারে শীত দির্ঘস্থায়ী থাকায় ১৫/২০ দিন দেরিতে ধান রোপন করা হয়েছে, ঝড়,তুফানে ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিলো. এবং করোনার কারনে ধান বিক্রি নিয়েও শঙ্কায় ছিলাম. অবশেষে তার উল্টো হলো। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে,দামও গত দুই বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন, সাড়ে ৭শ থেকে ৮শ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। গত বছরে ধান বিক্রি করা হয়েছিলো সাড়ে ৪শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা ,তাতে অনেক লোকশান হয়েছে. বারবার লোকশানে পড়ে ধানের আবাদ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এবারের মত দাম পেলে সামনের দিকে ধানের আবাদ আরও বৃদ্ধি করা হবে। 


বোদা উপজেলার ধান ব্যবসায়ী ডাবলু জানান, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, বাজারে ধানের পর্যাপ্ত আমদানীÑ চাহিদাও অনেক, শুরুতেই আমরা ধান ভেধে ক্রয় করছি ৭থেকে ৮শ টাকা, ধানের দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা।্ আর কিছু দিন পর ধানের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এরকম দাম যদি অব্যাহত থাকে , তাহলে আগামিতে ধান চাষে বেশি আগ্রহী হবে কৃষকরা।
 
জেলা কৃষিম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো,আবু হানিফ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৯ হাজার ১২৫হেক্টার জমিতে বোর ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন হয়েছে বাম্পার। বাজারে ধানের দামও সন্তোষ জনক থাকায় কৃষকরা অনেক লাভাবান হচ্ছেন. এছারাও অনেক কৃষক লটারীর মাধ্যমে সরকারী খাদ্য গুদামে প্রতিমন ধান ১হাজর ৪০টাকা দরে বিক্রি করে তারা আরও বেশি লাভবান হচ্ছেন। চাষাবাদে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত কৃষকদের  প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –
পঞ্চগড় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর