• মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৮

  • || ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
খালেদাকে বিদেশে যেতে আইনি প্রক্রিয়া মানতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানে ১৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি মূল্যায়ন ও অগ্রগতিতে প্রথম গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এনবিআর উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করবে তুরস্ক

দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে একটি গোষ্ঠীর কদর বাড়ে

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২১  

দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে একটি গোষ্ঠীর কদর বাড়ে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পায়রা সেতু উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা আসলে চায় না বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। এ কারণে স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল অবহেলিত রয়ে গেছে, পিছিয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমরা দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল তারাই চায় না দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। কিন্তু আজ বাংলাদেশের নাম শুনলে সবাই সম্মান করে। বিশ্বে বাংলাদেশের একটা মর্যাদার জায়গা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি পায়রা সেতুতে আমি নিজে উপস্থিত থাকতাম, সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে পারতাম বা হাঁটতে পারতাম তাহলে ভালো লাগত। কিন্তু করোনার কারণে তা হলো না।

তিনি বলেন, তবে আমার ইচ্ছা আছে, পরিস্থিতি বুঝে একদিন পায়রা সেতুর ওপর দিয়ে আমি গাড়ি নিয়ে যাব। কাছ থেকে দেখব সেতুটি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর কখনো কেউ পেছনে টানতে পারবে না। এর মাঝে কিছু কিছু ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটছে, ঘটানো হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হচ্ছে। সেটা আপনারা নিজেরাই টের পান। যাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। সেই সঙ্গে অপপ্রচারও চালানো হয়।

তিনি বলেন, আমরা যতই উন্নতি করি। ভালো কাজ করি। একটা শ্রেণিই আছে বাংলাদেশের বদনাম করতে তারা ব্যস্ত। তারা কি চায়? এ দেশের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক সেটা চায় না। একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হলে পরে তাদের একটু কদর বাড়ে। সেজন্য তারা সবসময় উন্নয়নটা আর দেখে না। বরং ধ্বংসই তারা করতে চায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এ ব্যাপারেও দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি আমরা মোকাবিলা করেছি। টিকা আমরা দিচ্ছি। বাংলাদেশের কোনো মানুষই বাদ থাকবে না। সবাইকে আমরা টিকা দিয়ে যাতে নিরাপদ থাকতে সেই ব্যবস্থাও আমরা করবো। স্কুল, কলেজগুলোও ধীরে ধীরে খুলে দিচ্ছি। যাতে আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়।

প্রধানমন্ত্রী সিলেট ও বরিশাল বিভাগের উন্নয়নে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সিলেট-তামাবিলের রাস্তাটা আওয়ামী লীগের আমলে (১৯৯৬-২০০১) করে দেওয়া। ওই রাস্তাটা তখনই আমি চার লেন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের আপত্তির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে সেটাকে আরও অতিরিক্ত চার ফুট চওড়া করে রাস্তাটা প্রকল্পের কাজ শুরু করি। তখন আমাদের পাঁচ বছর ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে অতিরিক্ত চওড়া ছিল, সেটা বন্ধ করে দিয়েছিল।

ঢাকা-সিলেট, সিলেট-তামাবিল সড়ক আধুনিক রাস্তা হিসেবে সরকার তৈরি করতে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সড়কে কোনো রকমের যানজট মোকাবিলা করতে হবে না। সরাসরি সিলেট এবং সিলেট হয়ে তামাবিলে পৌঁছাতে পারবে। আর ভবিষ্যতে এসক্যাপ যে এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণ করছে তার সঙ্গে…। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সড়ক যোগাযোগের সঙ্গে আমরা সংযুক্ত হতে পারব। সেই সুযোগটাও আমাদের সামনে আসবে। সেই দিক থেকে এটাও গুরুত্বপূর্ণ।

সারা বাংলাদেশে সরকার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দেশের যতটুকু উন্নয়ন সেটা আমরাই করে দিচ্ছি। সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনসহ যতটুকু উন্নতি হয়েছে সেটা আওয়ামী লীগ সরকারে আমলেই হয়েছে। 

তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগে শুধু রাস্তায়ই করি নাই। সেখানে সেনানিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। একটি নৌ ঘাঁটি হচ্ছে। বিমান ঘাঁটি হচ্ছে। সেই সঙ্গে কোস্ট গার্ডের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং কোস্ট গার্ড ঘাঁটি সেখানে করা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। আমরা পটুয়াখালীর গলাচিপাতে বীজ গবেষণা কেন্দ্র করেছি। সেইভাবে বরিশাল বিভাগে বড় কর্মযজ্ঞ চলছে। 

পায়রা বন্দর নিয়ে অনেক আপত্তি ছিল বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা হবে না। হলে কি হবে ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের বন্দর দরকার। সেটা মাথায় রেখেই পায়রা বন্দর নির্মাণ করেছি।

পায়রা সেতুতে ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থিক উন্নতি হবে বলে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই নামটা আমি পছন্দ করেছি। আর পায়রাতো শান্তির প্রতীক। এই সেতুর পরে মানুষের আর্থিক যে উন্নতি হবে। মানুষের মনে শান্তি আসবে। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে। সেই সুযোগটা সৃষ্টি হবে। এখানে পর্যটনের সুযোগ হবে। পায়রায় আমরা বন্দর তৈরি করেছি। সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ হবে।

বাংলাদেশকে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই বাঁচতে হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের এই দক্ষিণাঞ্চলটা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। তাই এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতিটা আমরা যত দ্রুত করতে পারব, তত এই অঞ্চলের মানুষ দ্রুত আর্থিকভাবে সচ্ছল হবে। 

বরিশাল বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুরের জেলাগুলো সবসময় অবহেলিত ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওই এলাকার ১২টি জেলা সবসময় অবহেলিত ছিল। তাদের অপরাধটা কি ছিল সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। তাদের কেন এত অবহেলার শিকার হতে হল? এ অঞ্চলের মানুষ সবসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একসময় সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা যেতে দশটি ফেরি পার হতে হত। বিগত বছরগুলোতে সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নের ফলে এই পথে বাকি ছিল কেবল দুটি ফেরি। এরমধ্যে পায়রা নদীতে সেতু চালু হওয়ায় এখন বাকি থাকল কেবল পদ্মা। আগামী বছর পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেলে কোনো ফেরি পারাপার ছাড়াই ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটা যাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ সরকার ও কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের যৌথ অর্থায়নে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লংজিয়ান রোডস অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি’ সেতুটি নির্মাণ করেছে।

পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের লেবুখালী পয়েন্টে সেতুটি নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায় ২০১২ সালে। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই। কার্যাদেশে সেতু নির্মাণে ৩৩ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের আগেই যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

১ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর ৮২ ভাগ অর্থায়ন করে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এবং এপেক ফান্ড। নির্মাণ কাজ করেছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –