• রোববার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪৩০

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪৫

নারী পাচারের অন্যতম মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় চটকদার চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে নারী পাচার করছে একটি চক্র। দুর্বিসহ জীবন থেকে ফিরে এসে গণমাধ্যমের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন পাচারের শিকার কয়েকজন নারী। তাদের কথায় উঠে এসেছে ভয়াবহ সব নির্যাতনের গল্প। পুলিশ জানায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেই পাচারের ফাঁদ পাতে ঐ চক্র।

ঢাকার পাশের জেলার এক নারীর স্বপ্ন ছিল চাকরি করে সংসারে হাল ধরার। গেল বছর এক বান্ধবী চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথমে তাকে যশোরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতা। এরপর হায়দরাবাদের নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে দেয় সেই নারীকে।

পরের গল্প আরো মর্মান্তিক। হায়দরাবাদের সেই পল্লীতে তার সঙ্গে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই ছেলেটি তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলে দিল্লিতে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে পালিয়ে কলকাতায় চলে আসে মেয়েটি। এবার সে পড়ে বখাটেদের খপ্পরে। কলকাতা পুলিশ তাকে আটক করে পাঠিয়ে দেয় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে।

এরই মধ্যে পাচার হওয়া এ নারীর খবর পায় অ্যামেচার রেডিও সংগঠনের সদস্যরা। তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় সংগঠনটির নেতা শামছুল হুদা প্রথমে ঐ নারীর মায়ের বাংলাদেশের ঠিকানা বের করেন। ররপর তিনি চলে যান কলকাতার সেই আশ্রয়কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন পর ভিডিও কলে দেখা হয় মা ও মেয়ের। এ সময় তৈরি হয় এক হৃদয়স্পর্ষী পরিবেশের।

এবার এক মায়ের গল্প। কোনো যোগ্যতা ছাড়াই বিদেশে ভালো চাকরি দেওয়া হবে। ফেসবুকে এমন বিজ্ঞাপনই কাল হলো। যারাই সেই বিজ্ঞাপনের সাড়া দেন তাদেরই চাকরির লোভ দেখায় পাচারকারীরা। ডিবি পুলিশ ভুক্তোভুগি নারীসহ এক পাচারকারীকে গ্রেফতার করলেও এরই মধ্যে পাচার হয়ে গেছেন অনেকে।

এছাড়া কিছুদিন আগেই রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে দুই কিশোরী নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে একটি চক্রের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফেসবুকে ‘সহজে বিদেশে চাকরি’র ফাঁদ পেতে নারী ও শিশুপাচার করতো চক্রটি।

পুলিশ জানিয়েছে, সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার ভারতীয় সীমান্তের জিরো পয়েন্টের গ্রাম কেরাগাছি এলাকার আব্দুল হামিদের দুই ছেলের নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কমবয়সী নারী ও শিশুকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত দিয়ে পাচার করে আসছিল। এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড আনারুল।

নারী পাচার বাংলাদেশে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এতে যোগসাজশ রয়েছে দেশ-বিদেশের চক্রের।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, দেশি-বিদেশি নারীপাচার চক্রগুলো বেশ শক্তিশালী। সবাই সচেতন না হলে এসব ঘৃণ্য অপরাধ প্রতিরোধ করা কঠিন।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –