• সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩ ১৪৩১

  • || ০৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

পঞ্চগড়ে ‘দধি কাদো’ খেলায় মাতলেন এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

সমবয়সী দু’জন কাদা মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে উভয়ে উভয়ের কাঁধের নিচে মাথা গুঁজে শুরু করেন বল প্রয়োগ। যে বিজয়ী হবে তার সঙ্গে প্রতিযোগী হবে আরেক বিজয়ী। চূড়ান্ত বিজয়ীকে করা হবে পুরস্কৃত।

এমন ব্যতিক্রমী খেলার নাম ‘দধি কাদো’ খেলা। স্থানীয়রা এটিকে কাঁদা খেলা হিসেবেই জানেন। গ্রামীণ জনপদের জনপ্রিয় এই খেলাটি এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না। কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে পঞ্চগড়ের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধরে রেখেছে এই ঐতিহ্য।

প্রতিবছর জন্মাষ্টমীর ‘নন্দ উৎসবে’ এ খেলায় মাতেন তারা। এ বছরও ব্যতিক্রমী খেলাটির আয়োজন করেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গ্রামের ধনেশ বাবুর বাড়ির উঠোনে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তাদের আয়োজন ছিলো- পিচ্ছিল কলাগাছ বেয়ে ওঠা, হাঁড়িভাঙা ও নারকেল কাড়াকাড়ি খেলা। এসব খেলা দেখতে সেখানে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দু’জন করে সমবয়সী এই খেলায় নামেন। শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি দু’জনকেই হতে হয় কৌশলী। শক্তি আর কৌশলে যে এগিয়ে সেই হন বিজয়ী। ‘দধি কাদো’ খেলার পর শুরু হয় দাঁড় করানো পিচ্ছিল কলা গাছ বেয়ে ওঠা। দর্শক হাসানো এই খেলায় সফল হওয়া বেশ কঠিন। এরপর চলে হাঁড়িভাঙা ও নারকেল কাড়াকাড়ি খেলা।

আয়োজকরা জানান, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রতিবছর এই খেলার আয়োজন করেন। খেলায় প্রতিযোগী তাদের গ্রামের ছেলেরাই। এই খেলার মাধ্যমে বছরের একদিন আনন্দ উৎসব করেন তারা।

জানা গেছে, গোকুল রাজনন্দ হলেন শ্রীকৃষ্ণের পালিত বাবা। কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল রাতে। নন্দ সেই আনন্দ উৎসব উদযাপন করেছিলেন পরেরদিন সকালে। সেই খবর শুনে পুরো গোকুলবাসী সেদিন মেতে উঠেছিলেন আনন্দে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই শুরু নন্দ উৎসব।

খেলা দেখতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম-বাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলা এখন বিলীন প্রায়। অনেক আগে এই খেলাটি দেখেছিলাম, আজকে আবার দেখলাম। অনেক ভালো লেগেছে।

আয়োজকদের মধ্যে প্রকাশ চন্দ্র রায় বলেন, এটা আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলা। প্রতিবছরই আমরা এখানে এই খেলার আয়োজন করি। একদিনের জন্য আনন্দে মাতি। শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো আমরা ঐতিহ্যবাহী এই  ‘দধি কাদো’ খেলার আয়োজন করেছি। সামনের বছর আরো বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খেলা উপভোগ করেন এলাকার ইউপি সদস্য মাহাতাব প্রধান মারিফ। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই খেলাগুলো বিলীন প্রায়। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা উপভোগ করেছি, ভালো লেগেছে। এই আয়োজন প্রতিবছরই হবে প্রত্যাশা করছি। একইসঙ্গে হারিয়ে যাওয়া খেলার মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –