• রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪৫

জালিয়াতি করে শিক্ষক হতে গিয়ে পঞ্চগড়ে আটক ৭

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২৩  

পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও বদলি হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ছয়টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে জালিয়াতি করে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। 

আটককৃতরা হলেন- মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে রাবেয়া সুলতানা, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজ কেন্দ্র থেকে মাসুমা বেগম মনিরা, জগদল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভাস্কর রায়, খানপুকুর খোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিটিউট কেন্দ্র থেকে কানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে উম্মে সুবাহ সাদিয়া, খানপুকুর খোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগে কবির হোসেন ও পঞ্চগড় নুরুল আলা নূর কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে বদলি পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়।

জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপে পঞ্চগড়ে ২৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত একযোগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায়  ১২ হাজার ৬৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে  ৯ হাজার ৯৫৫ জন অংশ নেন। অংশ নেননি ২ হাজার ৬৯৫ জন পরীক্ষার্থী।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম মন্ডল জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে পরীক্ষায় কানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করায় পাঁচজন ও মোবাইল ব্যবহার করার অপরাধে একজন এবং বদলি হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে একজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলার সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ব্যবহারসহ নকল করে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে ছয়টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে কর্মকর্তারা সাতজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করছেন। রাতেই তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো করা হবে।  

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো হয়। কেন্দ্রের সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়  নির্দেশনাও। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দায়িত্বরতরা পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এরপরও এই কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করছিলেন। আমরা পরীক্ষার শুরুতেই তাদের আটক করতে সক্ষম হই। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –