• রোববার ১৯ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৫

ঈদে ঘুরে আসতে পারেন সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৪  

পঞ্চগড়ের কথা শুনলেই চোখে ভেসে আসে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার নৈসর্গিক দৃশ্যের কথা। যদিও এটির দেখা সবসময় পাওয়া যায় না। তবে, ঈদের ছুটিতে জেলার অন্যান্য আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা। এ ছাড়া দেখতে পারেন উত্তরের প্রাণ প্রকৃতিসহ শতশত বছরের প্রাচীন নির্দশনের স্থাপনা। এসব প্রাচীন স্থাপনা ভ্রমণপ্রিয়দের জানিয়ে দিতে পারে ভ্রমণের নতুন অভিজ্ঞতা।

দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। ত্রিসীমান্ত বেষ্টিত ছোট এ জেলায় সীমান্ত জুড়ে রয়েছে রূপের পসরা ছড়ানো নানান দর্শনীয় স্থান। সবুজ চা বাগান, নদ-নদী, স্থলবন্দর ও প্রাচীন স্থাপনা। এসব প্রাণ প্রকৃতি ও স্থাপনা পর্যটন শিল্পে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি পর্যটকদের ঘুরাঘুরির নতুন জায়গাও তৈরি করেছে। তো চলুন ঘুরে আসি উত্তরের পঞ্চগড়ে।

পঞ্চগড়ে আসলে দেখা যাবে শতশত বছরের প্রাচীন স্থাপনার মধ্যে আটোয়ারীর মির্জাপুর শাহী মসজিদ, ইমাম বাড়া, সুফী সাধকদের বারো আউলিয়া মাজার। এসব মুসলিম স্থাপত্যের মুঘল সাম্রাজ্যের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। হিন্দু পুরাকীর্তির মধ্যে রয়েছে গোলকধাম মন্দির, জগবন্ধু ঠাকুর বাড়ি, বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির, কালী মন্দির। এসব মন্দিরগুলো রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস। এসব স্থাপনার বাইরেও রয়েছে ভিতরগড়ের দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রত্নতত্ত্ব নগরী, পনের শ বছরের প্রাচীন মহারাজার দীঘি ও দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর।

এ ছাড়া দেশের একমাত্র চারদেশীয় স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন হচ্ছে উত্তরের এ জেলায়। যে ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মানুষ চলাচল করে। আগামীতে প্রতিবেশী দেশ চীন যুক্ত হলে পঞ্চদেশীয় স্থলবন্দর হিসেবে রূপ নেবে এ স্থলবন্দর। এ কারণে বন্দরটি ঘিরে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার গল্প এ জেলা ঘিরে। প্রতি বছর হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত যুগল দেখতে লাখো পর্যটক ভারতের দার্জিলিং ও নেপালে ছুটে যান। সেই হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপমাধুর্য কাছ থেকেই দেখা মেলে এ জেলায় আসলে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন শতশত পর্যটকের সমাগম ঘটে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ দেখতে। কাঞ্চনজঙ্ঘার এই মোহনীয় রূপ দর্শনের সঙ্গে মহানন্দা নদীর রূপও জড়িয়ে যায়। দুই দেশের সীমান্ত প্রবাহিত মহানন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে যেমন কাছ থেকে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার, তেমনি মহানন্দার জলেও ভাসে সে পাহাড়ের মায়া। আর হাজার হাজার শ্রমিকের দলবেধে পাথর উত্তোলন, সূর্যাস্ত ও সন্ধ্যায় ঝিরিঝিরি দখিনা বাতাস ও হিমপ্রবাহ উপভোগের জায়গাও এ জেলা।

হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপের সঙ্গে মুগ্ধতা ছড়ায় সবুজ চা বাগান। পাহাড়ের ঢালুর চা বাগান না হলেও সমতলের চা বাগান পর্যটকদের আকৃষ্ট করে চলেছে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে। কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, আনন্দধারা রিসোর্ট ও ডাকবাংলো পিকনিক কর্ণারে বিভিন্ন স্থাপনাও নজর কাড়বে পর্যটকদের। পাশাপাশি এ অঞ্চলে আসা পর্যটকদের নিবির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থানা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে নিয়োজিত। এ ছাড়া এখানকার মানুষদের আতিথেয়তা যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ পঞ্চগড় জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ঈদে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পর্যটকের বেশি সমাগম হয়ে থাকে। তাই আমরা ঈদে পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। পাশাপাশি পর্যটকদের সঙ্গে সচেতনতামূলক কথাবার্তাও বলা হচ্ছে। যাতে পর্যটকরা নির্ভীঘ্নে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –