• মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৮

  • || ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
খালেদাকে বিদেশে যেতে আইনি প্রক্রিয়া মানতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানে ১৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি মূল্যায়ন ও অগ্রগতিতে প্রথম গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এনবিআর উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করবে তুরস্ক

নেতাদের মৃত্যু-অসুস্থতায় নেতৃত্ব শূন্যের কবলে পড়েছে বিএনপি       

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২১  

একের পর এক জ্যেষ্ঠ মেধাবী নেতার মৃত্যু ছাড়াও প্রথম সারির নেতাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নেতৃত্ব শূন্যের কবলে পড়েছে বিএনপি। এতে মধ্যম সারির নেতারা নিজেদের গুটিয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতা ও বিদেশে অবস্থান করায় আরো অনেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সভায় থাকছেন অনুপস্থিত। কেন্দ্রীয় নেতাদের দুরাবস্থার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চরম হতাশায় রয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে বার্ধক্যজনিত রোগসহ নানা জটিলতায় মারা যান বিএনপির সিনিয়র নেতা এম কে আনোয়ার। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভোগতে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম ২০১৮ সালে মারা যান। একই বছর মারা যান দলটির আরেক সদস্য এম তরিকুল ইসলাম। ২০২১ সালে হার্টের সমস্যায় সিঙ্গাপুরে মারা যান অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহও মারা যান অসুস্থ অবস্থায়। এতে মেধা শূন্য হয়ে পড়ে বিএনপি। এ সুযোগে নেতৃত্ব পেতে মরিয়া নেতারা জড়িয়ে পড়েছেন অন্তর্কোন্দলে। 

বর্তমানে জীবিত থাকা বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে অসুস্থ রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো না। প্রায়ই হার্টের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হয়।

দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বার্ধক্যজনিত কারণে শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অসুস্থতার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমান বিএনপিতে আছেন নাকি নেই সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছে না কেউ।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছেন। তিনিও দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন না দীর্ঘদিন ধরে। ড. মঈন খানের অবস্থা একই। তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় আছেন। দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে অনেক দিন ধরে নেই। ড. মঈন খান ফোরাম বৈঠকের বাইরে বিএনপির কূটনীতিক উইংয়ের কাজ করতেন। তিনিও এখন সক্রিয় নন।

দলটির আরেক সিনিয়র নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ভীষণ অসুস্থ। অসুস্থ থাকায় দলটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাসও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন না। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অসুস্থ রয়েছেন। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া তাকেও দলের কর্মসূচিতে খুব একটা পাওয়া যায় না। অসুস্থতাজনিত কারণে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান স্বল্প পরিসরে ঘরোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। দলের ভাইস চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন খানও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, বিএনপি প্রয়াত সিনিয়র নেতাদের ভালোভাবে দেখভাল করতে পারেনি। অনেকে চিকিৎসা পেয়ে মারা গেছেন, আবার অনেকে চিকিৎসার ঘাটতিতে মারা গেছেন। যারা মারা গেছেন তার ছিলেন অভিজ্ঞ ও মেধাবী রাজনীতিবিদ। এছাড়া বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগা নেতাদের অবস্থাও নাজুক।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –