• সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৪ ১৪২৮

  • || ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
বাংলাদেশকে আরো ৯৬ লাখ ফাইজার টিকা দিলো যুক্তরাষ্ট্র পীরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিন জনের মৃত্যু পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে: পরিবেশমন্ত্রী নাসিক নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ে উদাহরণ সৃষ্টি করবে: কৃষিমন্ত্রী ভূমি ব্যবস্থাপনাকে এসওপি’র আওতায় আনা হচ্ছে: ভূমি সচিব

কুড়িগ্রামে ঠিকাদার-এলজিইডি দ্বন্দ্বে বন্ধ ব্রিজ নির্মাণের কাজ

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২১  

ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের আদেশ স্থগিত এবং কাজ চলমান রাখা নিয়ে উচ্চ আদালতের রুল জারির পরও কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ধরলা ব্রিজ অ্যাপ্রোচ-যাত্রাপুর জিসি সড়কে ব্রিজ নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারের অভিযোগ, দুদফায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কপি এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার পরও নির্বাহী প্রকৌশলী চুক্তি বাতিলের ‘অজুহাত’ তুলে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। যা আদালত অবমাননার শামিল। এতে করে নির্মাণ কাজ স্থবির হয়ে জনগণের চলাচলে ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে এক মাসের জন্য স্থগিত এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে কেন কাজ চলমান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানাতে চার সপ্তাহের সময় দিয়ে রুল জারি করেন। রুলে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর এ আদেশের সময়সীমা আরও তিন মাসের জন্য বর্ধিত করেন আদালত।

তবে কুড়িগ্রামের এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আদালতের নির্দেশনার এমন কোনো কপি পাননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করা এবং বারবার চিঠি দিয়ে কাজ শুরুর তাগদা দেওয়ার পরও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখায় ঠিকাদারের সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়ায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের চিঠি চালাচালি এবং আইনি প্রক্রিয়ার বেড়াজালে পড়ে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ বর্তমানে বন্ধ আছে। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী সদর উপজেলার তিন ইউনিয়নসহ নাগেশ্বরী ও উলিপুর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় সদর উপজেলার তিন ইউনিয়নের মানুষসহ নাগেশ্বরী ও উলিপুর উপজেলার কিছু এলাকার মানুষ ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে।

এছাড়া এলাকার ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং পণ্য পরিবহনে অধিক ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মালের ক্ষতিসহ মানুষজন আহত হচ্ছেন।

নারায়নপুর এলাকার ঢাকাগামী দিনমজুর আয়নাল, শহিদুল ও আকরাম বলেন, কয়েক বছর সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকায় ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করে আসছি। মাঝে সেতুটির নির্মাণ কাজ অনেকাংশে এগিয়ে গেলে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি পাই। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছি। এছাড়া রাস্তা পারাপারে বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাধীন ধরলা ব্রিজ অ্যাপ্রোচ-যাত্রাপুর জিসি সড়কে ধরলা শাখা নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বসুন্ধরা অ্যান্ড আবুবকর (জেভি) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কাজটি শুরু করেন এর ক্ষমতাপ্রাপ্ত (অথরাইজ) স্বত্ত্বাধিকারী মো. গোলাম রব্বানী। কিন্তু ঠিকাদারের সঙ্গে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের চুক্তি বাতিলের আইনি জটিলতায় বর্তমানে ব্রিজের নির্মাণ কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ অবর্ণনীয় বিড়ম্বনা নিয়ে ওই সড়কে যাতায়াত করছে।

ঠিকাদার গোলাম রব্বানী বলেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে রিট করি। আদালত এলজিইডির চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে দুই দফায় চার মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং কাজ শুরু করে তা চলমান রাখার বিষয়ে রুল জারি করে কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে আদালতের আদেশের কপি এবং কাজ শুরু করার আবেদন দিয়ে আমি পুনরায় ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু এলজিইডি কর্তৃপক্ষ পুলিশ পাঠিয়ে আমার কাজ বন্ধ করে দেয়। তাদের আদালতের আদেশের কপি দিলেও তারা তাতে ভ্রুক্ষেপ করছেন না।

ওই ঠিকাদার আরও বলেন, সময়মতো কাজ শেষ না করার যে অভিযোগে আমার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া করে এ কাজ শেষ করতে তার চেয়ে আরও কয়েকগুণ বেশি সময় লাগবে। এতে করে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। এছাড়া নির্মাণ কাজে ১২টি গার্ডারের জন্য অনুমোদিত স্টেজিংয়ের আটটি প্রস্তুত করা হয়েছে। মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ করেছি। এ অবস্থায় আমাকে কাজ করতে না দিলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবো। এছাড়া স্টেজিংগুলো সরিয়ে নিতে হলেও কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। ফলে কাজ চলমান না রাখলে জনভোগান্তি আরও প্রলম্বিত হবে।

আদালতের নির্দেশনার পরও কাজ করতে না দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান দুলু।

আদেশের কপি দেখে ওই আইনজীবী বলেন, এ আদেশের ফলে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তটি স্থগিত হয়ে গেছে এবং একই সঙ্গে ওই ঠিকাদারের কাজ চলমান রাখতে আর কোনো বাধা নেই। কারণ চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত অর্থ আগের কার্যাদেশ বহাল আছে। এরপরও ঠিকাদারকে কাজ চলমান রাখতে না দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।

জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, গোলাম রব্বানী ওই কাজের ঠিকাদার নন। তার সঙ্গে আমাদের চুক্তিও নেই।

তবে ঠিকাদার গোলাম রব্বানী দাবি করেন, ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বত্তাধিকারী হওয়ায় ব্রিজ নির্মাণ কাজের সব কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর আছে এবং এ কাজের বিপরীতে ব্যাংক তার অনুকূলে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা লোনও দিয়েছে।

আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান দাবি করে বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কপি আমরা পাইনি।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –