• শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৯

  • || ১২ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে মাস্ক-টিকা সনদ বাধ্যতামূলক অর্থনীতিতে স্বস্তির আভাস মিলেছে: গভর্নর সরকারি ওষুধ চুরি করে বিক্রি করলে ১০ বছরের জেল প্রহরীর গলা কাটা মরদেহ, পার্কের মালিকসহ গ্রেপ্তার ৩ আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতায় ৫ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অনন্য অর্জন

কুড়িগ্রামে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১  

কুড়িগ্রামে বিগত চার বছর আশানুরূপ লাভের মুখ না দেখলেও চলতি মৌসুমেও আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। মৌসুমে আলুর দাম বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রান্তিক চাষিরা যেভাবে আলু চাষে ঝুঁকছেন- তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, চিলমারী,উলিপুরসহ নয়টি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তৃর্ণ জমিতে কৃষকরা আলু ক্ষেতে পরিচর্যা করেছে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে সার ও ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় এবছর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে বলে জানান কৃষকরা।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আলু চাষি মামুনুর রশীদ জানান, বিগত বছর আলু চাষে লোকসান হলেও এবছর তিনি আবারও আট একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবারও লোকসানের আশঙ্কা করছি। কৃষকদের স্বার্থে আলু বিদেশে রপ্তানির সুযোগসহ আলুর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে সরকারের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানাই।

একই উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আলু চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গতবছর লোকসান গুণলেও এবছর বীজের দাম কিছুটা কম হওয়ায় আবারও ১০০ একর জমিতে আলু চাষ করেছি। কিন্তু মৌসুমের সময় সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবারও খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। সরকার সহায়তা না করলে আলুচাষিরা এবছরও লোকসানের মুখে পড়বে। আলুর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও রপ্তানির সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানাই।

একই ইউনিয়নের সুভারকুটি এলাকার কৃষক মোস্তফা কামাল জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছর আমি ও আমার চাচাত ভাই মিলে ১২ একর জমিতে আলু চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত গাছ ভাল দেখা যাচ্ছে। আলুর ফলন ও দাম ভাল হলে চাষিরা লাভবান হবে। তবে সরকার যদি আলু বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ দেয়, তাহলে আলু চাষিদের লোকসান গুনতে হবে না।

এ বিষয়ে খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, কুড়িগ্রামে মাটি আলু চাষের উপযোগী হওয়ায় চাষিরা ব্যাপক হারে আলু চাষাবাদ করছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, জেলায় এবছর লক্ষ্যমাত্রার বেশি আলু উৎপাদন হবে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। মৌসুমের শৈত্যপ্রবাহ মোকাবিলা করাসহ প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগের ব্যাপারে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, এবছরও জেলায় আলুর ফলন ভালো হবে। কৃষকদের দাবির কথা বিবেচনা করে আলুর বাজার মূল্য নির্ধারণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –