ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামে আরো একজনের মৃত্যু। রংপুর নগরীতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে সিটি কর্পোরেশন।
  • শুক্রবার   ১৬ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে সরকার বসুন্ধরার হাসপাতাল ‘উধাও’ হয়নি, বণ্টন হয়েছে- স্বাস্থ্যের ডিজি রংপুরসহ দেশের তিন বিভাগ ও দুই জেলার একাধিক স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রংপুরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট।

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে `বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা`

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২১  

মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে 'বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা'। সোমবার প্রধানমন্ত্রী বীমা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বীমা পলিসির উদ্বোধন করেন। এই বীমা পলিসির প্রিমিয়াম দিতে হবে বছরে ৮৫ টাকা। পলিসির মেয়াদের মধ্যে বীমাগ্রহীতা মারা গেলে বা শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়লে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার সন্তানকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছরের জন্য পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে চালু করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা। এই বীমা পলিসির বীমাকৃত ব্যক্তি হবেন মা, বাবা অথবা আইনগত অভিভাবক। পলিসির মেয়াদের মধ্যে মা, বাবা বা আইনগত অভিভাবক মারা গেলে অথবা দুর্ঘটনাজনিত সম্পূর্ণ বা স্থায়ী অক্ষম হলে অথবা পঙ্গু হয়ে গেলে মাসে ৫০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের। এ বৃত্তি দেওয়া হবে পলিসির বাকি মেয়াদে অর্থাৎ বীমা পলিসি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি মাসে।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা চালুর জন্য যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে, তাতে দেখা যায়, পলিসির মেয়াদ শিশুর বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা বীমা পলিসির আওতায় আসবে। শিশুর ১৮তম জন্মদিনে পলিসির মেয়াদ শেষ হবে। শিশুর বয়স ৩ বছর হলে পলিসির মেয়াদ হবে ১৮ থেকে ৩ বাদ দিয়ে ১৫ বছর। শিশুর বয়স ১৮ বছর হলে পলিসির মেয়াদ হবে ১৮ থেকে ১৭ বাদ দিয়ে এক বছর।

তবে শিক্ষার্থীদের পক্ষে পলিসি করা মা, বাবা অথবা অভিভাবকদের বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬৪ বছর। আর প্রিমিয়ামের টাকা নেওয়া হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ ও বীমাগ্রহীতার বয়স ৬৪ বছর হয়ে গেলেই পলিসিটি মেয়াদোত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণত শিক্ষার্থীর মা অথবা বাবা হবেন বীমাগ্রহীতা। তবে মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায়ও তাদের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্য কেউ অভিভাবক হতে পারবেন। আবার মা-বাবার অবর্তমানে শিক্ষার্থীর ভরণপোষণকারীও হতে পারবেন বীমাগ্রহীতা।

বীমাগ্রহীতা মারা গেলে, যে মাসে মারা যাবেন, সে মাসের শেষে বৃত্তি দেওয়া শুরু হবে। শিশুর বয়স ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত মাসে মাসে এ বৃত্তি দেওয়া চলতে থাকবে। তবে কেউ যদি দুর্ঘটনার কারণে পঙ্গু হয়ে যান, তাহলে জীবনবীমা করপোরেশনের অনুমোদিত চিকিৎসকদের সনদ নিয়ে বৃত্তি দেওয়া শুরু করা হবে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা চালুর জন্য প্রতিটি জেলা থেকে একটি করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা (দশম শ্রেণি পর্যন্ত) বেছে নেওয়া হচ্ছে। এতে ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর মা, বাবা বা অভিভাবক এ বীমার আওতায় আসবেন। আপাতত প্রিমিয়ামের অর্থ আইডিআরএর তহবিল থেকে দেওয়া হবে জীবনবীমা করপোরেশনকে (জেবিসি)। কোনো দাবি উত্থাপিত হলে তা পরিশোধ করবে জেবিসি।

সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক তিন বছর আগেই এ বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিয়েছিল। এরপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তা নিয়ে কাজ করতে দেয় আইডিআরএকে। তিন বছর পর তা বাস্তব রূপ দেখতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, 'মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে এ শিক্ষাবীমা এসেছে। এর মাধ্যমে বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বেঁচে যাবে।'

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –