• শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৫ ১৪২৯

  • || ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ধর্ম নিরপেক্ষতা সমুন্নত রাখতে শেখ হাসিনাই `একমাত্র ভরসা’- ইন্ডিয়া টুডে আপাতত অফিস সময়ে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন শুদ্ধাচারের প্রয়োগ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব শিশুরাই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন দলগতভাবে বিএনপিকে প্রতিহত করা হবে: জাহাঙ্গীর কবির নানক

পরীক্ষার হলে পরিচয়, বাল্যবিয়ে করতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার 

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২২  

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বাল্যবিয়ে করতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন ইসকে আব্দুল্লাহ নামের এক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার শৌলমারী ইউপির বড়াইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

মো. ইসকে আব্দুল্লাহ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও দিনাজপুর সদরের সুইহারী (খালপাড়া) গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

শৌলমারী ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইউনুছ আলী জানান, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শৌলমারী এমআর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ। এর সুবাদে পরীক্ষা কেন্দ্রেই পরিচয় হয় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে। পরে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল নম্বরও নেন ওই কর্মকর্তা। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে কল দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ে করতে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে উপস্থিত হন ইসকে আব্দুল্লাহ। তার সঙ্গে কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান এবং নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের বয়স না হওয়ায় তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গণধোলাই দেন। এ সময় জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন রৌমারী সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু।

ওই কর্মকর্তার স্ত্রী কামরুন আরা বলেন, তাদের ঘরে দুই কন্যা সন্তান ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। এক মেয়ের বিয়েও দেওয়া হয়েছে। আরেক মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ছেলে সন্তান দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। তার স্বামী কিছুদিন ধরে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেন। বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। এ নিয়ে দিনাজপুর থানায় যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে তিনি মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ বলেন, আমার প্রথম স্ত্রীর দুটি অপারেশনের কারণে সে শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে দ্বিতীয় বিয়ে করতে আসছি। তবে মেয়ের বয়স কম সেটা আমার জানা ছিল না। তাই একটু হট্টগোল হয়েছে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদরে ৩০ শতক জমিতে বাড়ি করে দেবেন, ১০ ভরি স্বর্ণাঙ্কারসহ মোটা অংকের টাকা দেবেন। এমন প্রলোভনে আমার কোমলমতি মেয়েকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সুবাদে তার প্রথম স্ত্রীর ভুয়া অনুমতি সনদসহ দুজন লোককে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসেন। এ সময় গ্রামবাসীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।’

ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, রানীশংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা দুদিনের ছুটিতে রয়েছেন। এ ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –