• বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
আমাদের বিচার চাইতেও বাধা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ত্রিভুজ প্রেমের কারণে জীবন দিতে হলো সানজিদাকে: পুলিশ জামানতবিহীন গুচ্ছভিত্তিক ঋণ দেওয়ার নির্দেশ একদিনে ৮ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক কমতে পারে জ্বালানি তেলের দাম

পাঙাশ মাছের বার্গার-আচার-চাটনিসহ ১১ পণ্য উদ্ভাবন

প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২২  

পাঙাশ মাছের বার্গার-আচার-চাটনিসহ ১১ পণ্য উদ্ভাবন                 
বাংলাদেশে চাষ করা মাছের মধ্যে পাঙাশ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। মানুষের প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে মাছটি। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় পাঙাশ মাছের সরবরাহ বেশি। পাঙাশ মাছের দামও কম। এতে মাছ চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। গন্ধের কারণে পাঙাশ মাছ অনেকের কাছেই অপছন্দের। এছাড়াও সঠিক সময়ে সরবরাহ ও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় হাজার হাজার টন পাঙাশ মাছ। 
 
সবার কাছে মাছের পুষ্টি পৌঁছাতে এবং মাছ চাষিদের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পাঙাশ মাছের অব্যবহৃত অংশ থেকে মূল্য সংযোজিত ১১টি পণ্য উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের একদল গবেষক। গবেষণা দলের প্রধান ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা। তার সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। 

গবেষণার সঙ্গে একই বিভাগের ১৪ জন স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীও যুক্ত ছিলেন। করোনা মহামারির জন্য ২০১৮ সালে শুরু হওয়া দুই বছরের গবেষণাটি শেষ হয় চলতি বছরে।

গবেষক দলের প্রধান ড. ফাতেমা হক শিখা বলেন, পাঙাশ থেকে উদ্ভাবিত ১১টি পণ্য হলো- ফিশ বার্গার, ফিশ আচার, ফিশ চাটনি, ফিশ কাটলেট, ফিশ সসেজ, ফিশ পাঁপড়, ফিশ ফ্লেক, ফিশ চিপস, ফিশ ম্যাকারনি-পাস্তা, ফিশ জিলাটিন ও ফিশ গ্লু/আঠা। এসব মূল্য সংযোজিত পণ্যের প্যানেল টেস্টের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া এসব পণ্য সংরক্ষণ অবস্থায় খাবার উপযুক্ত কিনা সে বিষয়েও গবেষণা পরিচালনা করা হয়। 

গবেষক ড. ইসমাইল বলেন, পণ্যগুলোর মধ্যে ফিশ বার্গারে ২০ দশমিক ৯৮, ফিশ আচারে ২২ দশমিক ৫০, ফিশ চাটনিতে ৬ দশমিক ৬৮, ফিশ কাটলেটে ১৮ দশমিক ৩৮, ফিশ সসেজে ১২ দশমিক ৫৪, ফিশ পাঁপড়ে ২৩ দশমিক ৯২, ফিশ ফ্লেকে ২৪ দশমিক ৫৬, ফিশ চিপসে ২৪ দশমিক ৮৭ এবং ফিশ ম্যাকরনি-পাস্তায় ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। 

ড. ফাতেমা হক শিখা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মাছ খেতে পছন্দ করে না। তাই মাছের বিভিন্ন খাদ্য পণ্য তৈরির মাধ্যমে মাছের পুষ্টি তাদের কাছে পৌঁছানো আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে উদ্ভাবিত পণ্যগুলো শিশুদের কাছে খুব প্রিয়। তারা সহজেই এসব পণ্য গ্রহণের মাধ্যমে মাছের পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

উদ্ভাবিত পণ্য সংরক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায় ফিশ পণ্যগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বায়ু শূন্য পলিথিনের ব্যাগে ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। অন্যদিকে ভেজা খাবারগুলো ফ্রিজে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া ফিশ আচার এবং চাটনি প্রায় ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –