• বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
আমাদের বিচার চাইতেও বাধা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ত্রিভুজ প্রেমের কারণে জীবন দিতে হলো সানজিদাকে: পুলিশ জামানতবিহীন গুচ্ছভিত্তিক ঋণ দেওয়ার নির্দেশ একদিনে ৮ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক কমতে পারে জ্বালানি তেলের দাম

ভদ্র বাবুর দাম ১৫ লাখ, দুষ্টু বাবু ১০

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২২  

চোখ দুটি কালো, ছোট্ট দুটি শিং। দেখতে বেশ নাদুস নুদুস। গলায় রশি নেই। শান্ত প্রকৃতির মেজাজ। কালো রংয়ের এই গরুটির আদুরে নাম ‘ভদ্র বাবু’। আচরণে শান্তশিষ্ট ভদ্র বাবুর ভাবখানাও কম নয়। বেশির ভাগ সময়ই থাকেন চুপচাপ। অথচ এর পাশেই রয়েছে আরেকটি গরু। কিছুটা রগচটা স্বভাবের। কারণে অকারণে বারবার মাথা নাড়া দেয়। অনেকটাই দুষ্টু প্রকৃতির। এ কারণে নাম দেওয়া হয়েছে ‘দুষ্টু বাবু’। একবার ছাড়া পেলে আটকানো মুশকিল দুষ্টু বাবুকে।

‘ভদ্র বাবু’ ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। বয়স প্রায় ছয় বছর। আর চার বছর বয়সী ‘দুষ্টু বাবু’ ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের। রংপুরে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দুটি গরু বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই গরু দুটি কিনতে আগ্রহও দেখাচ্ছেন। খামারিও চাইছেন ভদ্র বাবু ও দুষ্টু বাবুকে পশুর হাটে না তুলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে। দুই গরুর মধ্যে ভদ্র বাবুর দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ, আর দুষ্টু বাবুর দাম ১০ লাখ টাকা।

গরু দুটির মালিক রওশানুল ইসলাম (৩৮)। বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের কিষামত হাবু গ্রামে। তিনি ছয় বছর ধরে ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি পালন করে বড় করেছেন। স্বভাবে শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় গরুটির নাম দিয়েছেন ভদ্র বাবু। আর চার বছর থেকে লালনপালন করা ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের অন্য গরুটির নাম দিয়েছেন দুষ্টু বাবু।

এবারের কোরবানির ঈদে গরু দুটিকে বিক্রি করতে চান রওশানুল। এই খামারির দাবি, ভদ্র বাবুর ওজন ৪০ মণেরও বেশি। অর্থাৎ ১৬০০ কেজির বেশি মাংস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর দুষ্টু বাবুর ওজন ৩০ মণ অর্থাৎ ১২০০ কেজি মাংস হবে। এ দুটি গরু ছাড়াও রওশানুল ইসলামের খামারে আরও চারটি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।

শনিবার (২ জুলাই) সকালে প্রতিবেদক রওশানুলের খামারে যান। সেখানে ভদ্র ও দুষ্টুকে বাড়ির ভেতরে টিনের ছাউনি দেওয়া একটি ছোট্ট খামারে রাখা হয়েছে। নিরিবিলি পরিবেশে সেই চালাঘরে আলো-বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা আছে। এর পাশে অন্য জাতের আরও চারটি গরু রয়েছে। তবে ভদ্র বাবুর আচরণ ধীরস্থির। চোখ দুটো আকর্ষণীয়। বিশাল দেহের এ গরুটির পেট, পিঠ, লেজসহ পুরো চামড়ার রং কালো। মাথার সামনের ওপরে থাকা ছোট্ট শিং দুটিতে সামান্য সাদা ছাপ। শান্ত স্বভাবের আচরণে সহজেই সবার নজর কাড়ে ‘ভদ্র বাবু’। অন্য গরুটি অর্থাৎ দুষ্টু বাবু উল্টো স্বভাবের হলেও সুঠাম দেহের অধিকারী ভদ্র বাবুর মতো কালো রংয়ের।  

সরেজমিনে দেখা যায়, রওশানুল ও তার স্ত্রী মিলে খামারে থাকা গরুগুলোর পরিচর্যা করছেন। নাম ধরে ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভদ্র নড়েচড়ে ওঠে। মাথাটা দোলাদুলি করতে থাকে। একইভাবে দুষ্টু বাবুও সাড়া দেয়। তবে গরু দুটির গলায় কোনো রশি বেঁধে দেননি খামারি। শুধু সামনের পা দুটি রশিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। খামারি রওশানুলের পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ নাম ধরে ডাক দিলে তেমন কোনো সাড়াশব্দ করে না গরু দুটি। এই খামারে দুষ্টু বাবুর মা গরুটি থাকলে নেই ভদ্র বাবুর আপন কেউ।

খামারি রওশানুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে মাত্র ১৮ হাজার টাকায় একটি লাল রংয়ের দেশি গরু দিয়ে তিনি খামার গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই একটি গরু থেকে তিন বছরে তিনটি বাচ্চা হয়। এর মধ্যে প্রথম বাচ্চাটি বড় হয়ে একটি বাচ্চা দেয়। এভাবে একের এক বাচ্চা হতে থাকে, আর এভাবে বাড়তে থাকে গরুর সংখ্যা। সব মিলিয়ে ৯ বছরে ১২টি গরু হয়। এসব থেকে বিভিন্ন সময়ে ছয়টি গরু তিনি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে ভদ্র বাবু ও দুষ্টু বাবুসহ তার খামারে ছয়টি গরু রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া, ভুট্টা ও খুদের ভাত খাওয়ানো হয়। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বাড়াতে খরচও বেশি হচ্ছে। তবে এসব গরুর জন্য আলাদা কোনো ওষুধ, কীটনাশক তিনি ব্যবহার করেন না। একেবারেই দেশি গরুর মতো খাবার খায় এসব গরু। গত বছরও তিনি ভদ্র ও দুষ্টুকে হাটে তুলেছিলেন। গরু দুটি কিনতে অনেকেই আগ্রহও দেখিয়েছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করা হয়নি। এবার ভালো দামে গরু দুটি বিক্রি হবে বলে আশা করছেন রওশানুল।

ইতোমধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ অনেক ক্রেতাই তার বাড়িতে এসে গরু দুটি দেখে যাচ্ছেন। গরুটি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন। অনেকে ফেসবুকে ছবি দেখে ফোনও করছেন। কিন্তু দামের বেলায় তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি কেউ। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দামের জন্য অপেক্ষা করবেন রওশানুল ইসলাম। 

এদিকে রংপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনলাইনে ১১টি পশুর হাট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ‘পশুরহাট’ নামে অনলাইন পেজ খুলে এই হাট চালু করা হয়েছে। এই অনলাইন পেজে গরু পালনকারীদের পশুর ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য থাকবে। আশা করা হচ্ছে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারো এই অনলাইন গরুর হাটে সাড়া পাওয়া যাবে। অনলাইনে পশু কেনাবেচার হাট ছাড়া রংপুর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত অর্ধশত পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে বড় চারটি হাট। বাকি সব হাট বিভিন্ন উপজেলায়। তবে এখন পর্যন্ত কোরবানির পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা জমে উঠেনি।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ট্রেনিং অফিসার বাবুল হোসেন জানান, জেলায় এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। আর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৩০০টি পশুর। এবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পশুর হাটে রোগ নির্ণয়ে পশু চিকিৎসকের টিম থাকবে। 

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –