• বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
আমাদের বিচার চাইতেও বাধা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ত্রিভুজ প্রেমের কারণে জীবন দিতে হলো সানজিদাকে: পুলিশ জামানতবিহীন গুচ্ছভিত্তিক ঋণ দেওয়ার নির্দেশ একদিনে ৮ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক কমতে পারে জ্বালানি তেলের দাম

মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে দেশের প্রথম গৃহহীনমুক্ত জেলা হচ্ছে পঞ্চগড়

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২২  

মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে দেশের প্রথম গৃহহীনমুক্ত জেলা হচ্ছে পঞ্চগড়             
মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে দেশের প্রথম ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত জেলা হতে যাচ্ছে পঞ্চগড়। আগামী ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পঞ্চগড়কে শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করবেন। জেলার চার হাজার ৮৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আশ্রয় পাবেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দুই শতক জমির মালিকানার সঙ্গে প্রতিটি একক গৃহে রয়েছে দুটি করে শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি শৌচাগারসহ একটি বারান্দা। প্রতি গৃহে বিদ্যুৎ সংযোগসহ সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে নলকূপ।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম হলো দেশকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ের জেলার ৫ উপজেলায় চার হাজার ৮৫০টি একক গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক হাজার ৪৯৬টি, বোদা উপজেলায় ৪২৩টি, দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৮০৩টি, তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৭২৭টি এবং আটোয়ারী উপজেলায় ৪০১টি। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণ করা দুই হাজার ৪১৬টি একক গৃহ জমির কবুলিয়াতসহ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়।

তৃতীয় পর্যায়ে ১৭৬ স্থানে দুই হাজার ৪৩৪টি একক গৃহের মধ্যে এক হাজার ২১টি এরই মধ্যে প্রদান করা হয়েছে। বাকি এক হাজার ৪১৩টি একক গৃহ ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকার আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, পঞ্চগড় উপজেলা সদরের পঞ্চগড় ইউনিয়নের মাহানপাড়া আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ চলছে। এই আশ্রয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলাকে দেশের প্রথম শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন। এজন্য মাহানপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের সার্বক্ষণিক এবং আন্তরিক তদারকিতে মাহানপাড়া আশ্রয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক আশ্রয়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করার বিশেষ এই উদ্যোগ গ্রহণের পর থেকেই জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম পঞ্চগড় জেলাকে দেশের মধ্যে প্রথম ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা করার জন্য মাঠে নামেন। তিনি পুলিশ সুপার মোহম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আমিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন বিভিন্ন আশ্রয়নের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময় পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধানকে নিয়েও বিভিন্ন আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখানো হয়। তাদের হাত দিয়ে আশ্রয়হীন মানুষদের হাতে জমি রেজিস্ট্রি, কবুলিয়াতের কাগজপত্রসহ ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর্থিক অনটনসহ নানা কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এসব মানুষের নিজস্ব কোনো আশ্রয় ছিল না। এদের কেউ সরকারি জমিতে, সড়ক মহাসড়কের পাশে ফুটপাতে, কেউ অন্যের মালিকানার জমিতে ঝুপড়ি ঘর তুলে, কেউ আবার নিরুপায় হয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন বছরের পর বছর।

এদের মধ্যে রয়েছেন আদিবাসী মানুষজন, পাথর ও মাটিকাটা শ্রমিক, দিনমজুর চা ও কৃষি শ্রমিক পরিবার। ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সে পঞ্চগড় প্রান্তে রেলপথ মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম সুজন এমপি, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিকাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মাহানপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রয় পাওয়া ভূমিহীন দুদু মিয়া (৬৫), জহুর আলী (৬০) লোকমান আলী (৫৫) বলেন, আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি কোনো দিন নিজের জমিতে বিল্ডিং ঘরে ঘুমাতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই।

ধাক্কামার ইউনিয়নের রাজারপাড় ডাংগার আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর পাওয়া নুরুল ইসলামের স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, আমরা সরকারি জায়গায় কোনোমতে বসবাস করতাম। আমাদের নিজেদের কোনো জমি বা বাড়ি ছিল না। আমরা আশ্রয়হীন ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন, পাকা বাড়ি করে দিয়েছেন। এমন প্রধানমন্ত্রীই আমরা চাই।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়ীনাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, আমরা এলাকায় মাইকিং করেছি। বিভিন্নভাবে প্রচারও করেছি। এপর ২৬টি ভূমিহীন এবং গৃহহীন পরিবার পেয়েছি। তাদের প্রত্যেককে জমিসহ পাকা বাড়িঘর করে দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য খেলার মাঠ করা হয়েছে। আমাদের ইউনিয়নে আশ্রয়হীন এসব পরিবারের সঙ্গে অন্যরাও বেশ খুশি হয়েছেন।

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে জেলার ৪৩ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আবেদন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। আবেদনকৃত প্রত্যেক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে এই আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের উন্নয়ন যাতে মানসম্মত হয় এ নিয়েও আমাদের আন্তরিক তদারকি ছিল।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন, গৃহহীন, আশ্রয়হীন থাকবে না। মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন দীপ্ত ঘোষণায় সারাদেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের একক গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলাকে দেশের প্রথম শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করবেন বলে আশা করি।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –