• শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৭ ১৪৩১

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪৫

সর্বশেষ:
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাস, আজ ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। বন্যায় দুবাই এবং ওমানে বাংলাদেশীসহ ২১ জনের মৃত্যু। আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের দাম। ইসরায়েলের হামলার পর প্রধান দুটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু। ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানে।

২৬ বছরে পদার্পণ করলো করতোয়া সেতু

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

২৫ পেরিয়ে ২৬ এ পদার্পণ করলো দেবীগঞ্জবাসীর বহুল প্রত্যাশিত চতুর্থ চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু। যা করতোয়া সেতু নামেই অধিক পরিচিত। ১৯৯৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীর উপর নির্মিত চতুর্থ চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করেন।

এর আগে ১৯৯৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া, সামরিক শাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৮ সালে করতোয়া সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যদিও পরবর্তীতে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

করতোয়া নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় উৎপত্তি লাভ করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ নদী পঞ্চগড়, দিনাজপুর হয়ে বগুড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। করতোয়া নদীর সর্ব বিস্তৃত অংশটি দেবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

সেতু নির্মাণের আগে নীলফামারী জেলার সাথে পঞ্চগড় জেলার এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার সাথে পঞ্চগড় জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ ছিল। বর্ষাকালে নদীর ঐপাড়ের ৬টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চিকিৎসাসহ নাগরিক সেবা নিতে নৌকায় করে খরস্রোতা করতোয়া পাড়ি দিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরে আসতে হতো। 

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ১৯৯৭ সালে খরস্রোতা করতোয়া নদীর উপর চতুর্থ চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৯৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৫৭৭ দশমিক ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ মিটার।

সেতুটি উদ্বোধনের পর দেবীগঞ্জ উপজেলার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এছাড়া এই সেতু থেকে সরকার প্রতিবছর মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় করতে পারছে।

করতোয়া সেতু উদ্বোধনের পর থেকে দেবীগঞ্জবাসীর বিকেলের অবসর সময় কাটানোর স্থানে পরিণত হয় সেতুর ২ পাড়। ২০০৯ সালে পঞ্চগড়ের তৎকালীন জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক করতোয়া সেতুর পূর্ব প্রান্তে ডিসি পার্ক নামে একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ডিসি পার্ক।

করতোয়া সেতু নির্মাণের এই গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা। স্বাধীনতা পরবর্তী দেবীগঞ্জ উপজেলাবাসীর সব থেকে বড় প্রাপ্তি এই চতুর্থ চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –