• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৭ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ওয়াদা করুন, নৌকায় ভোট দেবেন: প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ সাত জুয়াড়ি গ্রেফতার এসএসসি-সমমানের পরীক্ষা শুরু ৩০ এপ্রিল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করবে সরকার নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজুল, সম্পাদক অক্ষয়

‘জাপানের প্রযুক্তিতে পরিচালনা করা হবে ঢাকার মেট্রোরেল’

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২২  

‘জাপানের প্রযুক্তিতে পরিচালনা করা হবে ঢাকার মেট্রোরেল’                     
অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ। ডিসেম্বরে বাণিজ্যিক যাত্রায় যাচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও বিজয়ের মাসেই মেগা প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহনে ফিরবে শৃঙ্খলা, কমবে যানজট। নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতে পৃথিবীর ৫০টির বেশি দেশে চালু আছে মেট্রোরেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০১২ সালে মেট্রো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। মেট্রোরেলের নান্দনিক স্টেশনগুলোতে থাকছে যাত্রীদের অত্যাধুনিক সব সুবিধা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মঘণ্টা ও যানজট কমানোর পাশাপাশি মেগা প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে।

মেট্রোরেল নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. মিজানুর রহমান।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইফুল হক মিঠু।

প্রতিবেদক: ডিসেম্বরে চালু হতে যাওয়া মেট্রোরেল-৬, রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব ফেলবে? যানজট নিরসনে কতটুকু ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন?

ড. মো. মিজানুর রহমান: যখনই আমরা কোনো ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কে নতুন সাপ্লাই সংযুক্ত করি সেটা যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে। এমআরটি একটি রেল বেজড প্রকল্প হওয়ায় এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করবে। ভ্রমণে সময় কম লাগবে যাত্রীদের। তারা বুঝতে পারবে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগবে। সেই মোতাবেক একজন যাত্রী ঘর থেকে বের হতে পারবেন। এবং সময়মতো তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

মেট্রোরেল চালু হলে উত্তরা থেকে আগারগাঁও আসতে যে সময়টা লাগবে সেটা সব সময় একই থাকবে। এখানে দেরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনেক কর্মক্ষম সময় যেটা আগে নষ্ট হতো, সেটা বেঁচে যাবে।

এমআরটি লাইন-৬ দিয়ে পুরো রাজধানীর যানজট দূর করবো এটি বললে তা বাহুল্য হবে। এই প্রকল্প দিয়ে ঢাকার যানজট কিছুটা কমাতে পারে। এমআরটির যে আরও লাইন আছে, সেগুলো যখন কার্যকর হবে, এর ওপর রেল সক্রিয় হবে তখন সেটা যানজটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই একটি প্রকল্প দিয়ে রাজধানীকে যানজটমুক্ত করা যাবে না।

এমআরটি লাইন-৬ যখন চালু হবে, তখন এই রুটের নিচে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমবে। যারা সিএনজি অটোরিকশা বা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন তারাই মেট্রোর যাত্রী হবেন- এমনটাই আশা করছি। ছোট গাড়ির সংখ্যা যদি কমে যায় তাহলে কিছুটা যানজট কমে যাবে।

প্রতিবেদক: বাংলাদেশে এই প্রথম মেট্রো, নতুন সংস্কৃতি। এর সঙ্গে আমরা কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারবো। এর ব্যবহারবিধি বা যাত্রীদের প্রশিক্ষণের দরকার ছিল কি না?

ড. মো. মিজানুর রহমান: আমরা নতুন ধরনের যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছি। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ সেটি বিবেচনা করেই সবাইকে ব্যবহার করতে হবে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়তো সেভাবে না করলেও কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তার একটা ডেমো দিয়াবাড়িতে দেওয়া হচ্ছে। এটা হয়তো ভিজ্যুয়াল মাধ্যমেও জনগণকে জানানো হবে। নাগরিকদের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে মেট্রোরেল আমাদের জাতীয় সম্পদ, সেভাবে যেন আমরা ব্যবহার করি। যত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে তত স্বাচ্ছন্দ্যে ও দীর্ঘদিন ধরে আমরা ব্যবহার করতে পারবো।

প্রতিবেদক: মেট্রোর ভাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে?

ড. মো. মিজানুর রহমান: সব ধরনের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম যে সবাই ব্যবহার করবে- এভাবে চিন্তা করা হয়নি। যারা একটু অ্যাফোর্ট করে তারা হয়তো এমআরটি ব্যবহার করবে। আমাদের মূল লক্ষ্য রাস্তা থেকে ছোট গাড়িগুলো কমিয়ে ফেলা। ছোট গাড়ি ব্যবহার যারা করেন তাদের এমআরটিতে শিফ্ট করার সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানের কোচগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। যারা একটু বেশি ভাড়া দিয়ে ব্যবহার করতে পারে সেভাবেই কিন্তু চিন্তা করা হয়েছে। নিচে ছোট গাড়ি কমলে যানজটও অনেকাংশে কমে যাবে। তখন ট্র্যাডিশনাল বাস যেগুলোর ভাড়া কম, সেগুলোতেও আরামে চলাচল করা যাবে। ভাড়া কম না বেশি এটি নিয়ে বিতর্ক সব সময় থাকবে।

প্রতিবেদক: এখন উড়ালপথে মেট্রোরেল কি সময় উপযোগী? এটায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কতটা?

ড. মো. মিজানুর রহমান: রাজধানীর সড়কে যানজটের যে চরিত্র, এটা বাড়তেই থাকে। এর ফলে এ ধরনের ম্যাস র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন দিয়ে অসহনীয় যানজট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ভূগর্ভস্থ কোনো কিছু না করে কেন মেট্রোরেল করলাম, এটা অনেকেই জানতে চায়। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী জাইকার পরামর্শ ছিল, যেহেতু প্রথম মেট্রোরেল, এলিভেটেড করাটাই ভালো হবে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ করতে গেলে অনেক প্রতিকূলতাও আছে। এর নির্মাণ খরচও মেট্রোর তিনগুণের বেশি। এসব বিবেচনায় নিয়ে উড়ালপথে যে মেট্রোরেল তৈরি করা হচ্ছে সেটা সময় উপযোগী। উন্নত সব প্রযুক্তি ব্যবহার করায় মেট্রোরেলটি সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ থাকবে। এটি যারা তৈরি করছেন বা পরামর্শক হিসেবে আছেন তারা জাপানি প্রতিষ্ঠান। জাপানে কয়েক যুগ ধরে মেট্রোরেল তারা চালাচ্ছেন। তাদের কোনো ধরনের দুর্ঘটনার রেকর্ড নেই। জাপানে যে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে, সেই একই প্রযুক্তিতে আমাদের মেট্রোরেল পরিচালনা করা হবে।

অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের (ওসিসি) মাধ্যমে পুরো সিস্টেমটা পরিচালিত হবে। এতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মুভিং ব্লক কমিউনেকশন বেজড টেলি কন্ট্রোল সিস্টেম থাকবে, অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন বা এটিও থাকবে। এসবের ফলে চালকের কিছু করার থাকবে না। ট্রেনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সেন্ট্রাল কন্ট্রোল যেখানে থাকবে সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হবে। ট্রেন অটোমেটিক স্টপ কন্ট্রোলের মাধ্যমে কোথায়, কখন থামাতে হবে সেটি নির্ধারিত হবে। ১৫০ মিলিমিটার অ্যাকুইরেসির মধ্যে এই ট্রেন থামতে সক্ষম। প্রোগ্রাম রুট কন্ট্রোলার সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেনের রুটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় মেট্রোরেলে কোনো সমস্যা হবে না।

প্রতিবেদক: মেট্রোরেল রক্ষণাবেক্ষণে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সক্ষমতা কতটুকু?

ড. মো. মিজানুর রহমান: এই মুহূর্তে ডিএমটিসিএল পরিপূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শুরুতে হয়তো এই প্রতিষ্ঠানটি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহায়তা নেবে। তারা লোকবল নিয়োগ দিচ্ছে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। ডিএমটিসিএলের নিয়োগপ্রাপ্ত লোকজন পরামর্শদাতাদের সঙ্গে কাজ করতে করতে দক্ষ হবেন, তখন তারা নিজেরা সুশৃঙ্খলভাবে সেটি পরিচালনা করতে পারবেন। এর জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
###জাগো নিউজ।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –