• শুক্রবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৯

  • || ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ১০ হাজার পদ বাড়ছে নারী পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে: শিক্ষামন্ত্রী পাহাড়ের পরিবেশ অশান্ত করেছেন জিয়া: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী উদ্বোধনের পরদিনই মেট্রোরেলে চড়তে পারবেন যাত্রীরা ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন চলতি মাসেই

প্রতিবন্ধী স্মৃতির মুখে হাসি ফোটালেন পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২২  

স্মৃতি রায়। অন্য সব শিশুর মতো তার বেড়ে উঠা স্বাভাবিক নয়। জন্মের পর থেকে সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি দরিদ্র মা-বাবা। বিনা চিকিৎসায় দেখতে দেখতে স্মৃতি এখন ১৪ বছরের কিশোরী। কখনো দুই পায়ে ঠিক মতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি অসহায় এই মেয়েটি। দুর্গোৎসবে তার বয়সী শিশুরা যখন আনন্দে ভাসছিল, তখনো স্মৃতি রায়ের মুখে হাসি ছিল না। শারীরিক অক্ষমতা যেন তার হাসি আর দুরন্তপনা কেড়ে নিয়েছে।

দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের দিনে অশ্রুসিক্ত তার মা-বাবা। দীর্ঘদিনেও একমাত্র মেয়ে স্মৃতির ইচ্ছাপূরণে একটি হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারেননি তারা। সেই যাতনা যেন বড় বড় উৎসবগুলোতে মা রাধা রানী রায় ও বাবা বিষ্ণু রায়কে বেশি কাঁদায়। তবে এবার সেই স্মৃতি রায়ের মুখে হাসি ফুটেছে। হাসছেন তার মা-বাবাও। 

বিজয়া দশমীতে শারীরিক প্রতিবন্ধী স্মৃতি রায়ের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি রংপুর সদর কোর্টের সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। 

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর নগরীর কামারপাড়ায় স্মৃতি রায়ের মা-বাবার কাছে একটি উন্নতমানের হুইল চেয়ার প্রদান করেন শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় সেখানে স্মৃতি রায় ছাড়াও কামারপাড়া কুতুবিয়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক মামুন, সদ্যপুষ্কুরিনী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাইফুর রহমান বাবু, অগ্রণী সংঘের সদস্য সচিব মমিনুল ইসলাম রিপন উপস্থিত ছিলেন।
 
জানা গেছে, রংপুর মহানগরীর ২২নং ওয়ার্ডের কামারপাড়া গ্রামের বিষ্ণু রায় ও রাধা রানী রায় দম্পতির শিশুকন্যা স্মৃতি রায় শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী। জন্মের কয়েক মাস পর স্মৃতির শারীরিক অসুস্থতা বুঝতে পারে তার পরিবার। স্মৃতির বাবা বিষ্ণু রায় পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। আর্থিক দৈন্যদশায় শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যার কোনো চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। একাই চলাফেরা করতে না পারা স্মৃতি ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। অন্যের হাত ধরে নয়তো কোথাও ভর করে হাঁটতে হয় তাকে।

সম্প্রতি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছ থেকে প্রতিবন্ধী স্মৃতি রায়ের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানতে পারেন রংপুর সদর কোর্টের এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুধবার বিকেলে স্মৃতিকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে স্মৃতির মা রাধা রানী রায় বলেন, আমার দুটি ছেলে-মেয়ে। এর মধ্যে সবার বড় স্মৃতি আর ছোটটা ছেলে। জন্মগতভাবে স্মৃতি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার স্বামী রং মিস্ত্রি। মেয়ের চিকিৎসা করার মতো আমাদের সামর্থ্য নেই। খুব কষ্টে আমাদের সংসার চলছে। এখন মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে একা হাঁটাচলা বা খেতেও পারে না। অন্য কারো হাতেও খেতে চায় না। ওর মনের মধ্যে খুব ভয় কাজ করে। কখনো হাসতেও চায় না। কিন্তু আজকে হুইল চেয়ারে বসার পর ওর চোখে মুখে হাসি ছিল। পুলিশ ভাই আমার মেয়েকে হুইল চেয়ার দিয়েছে। মেয়েটা আমার এখন খুব খুশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজুর রহমান ২০০০ সালে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবিক কাজ করে আসছেন। ২০২০ সালে গাজীপুরে হাইওয়ে পুলিশে থাকাকালে ঘুষ বিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন।

এ ব্যাপারে রংপুর কোর্ট পুলিশের এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি আমার নিজ উদ্যোগে অবসর সময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী এসব মানুষকে সহায়তার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় আমরা সবাই যদি সবার জায়গা থেকে একটু একটু এগিয়ে আসি, তাহলে সমাজে অসহায়-গরিব মানুষেরা দুঃখ কষ্ট ভুলে একটু ভালো অবস্থায় ফিরতে পারবে।

তিনি বলেন, চাকরিজীবনের ২২ বছর চলছে। এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ, ডিএমপি, দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি, গাজীপুর ও পঞ্চগড়ে কর্মরত থাকাকালেও এমন গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি চার বছর আগে ফুড ব্যাংক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি। এ ধরনের মানবিক কাজ করতে আমার ভালো লাগে। আত্মার মধ্যে অন্য রকম শান্তি পাই।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –