• সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
গুজবে কান দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা না তোলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বিজ্ঞান চর্চা বাড়াতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী সবাইকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা দরকার: ডেপুটি স্পিকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী বিএনপি থেকে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে হবে: এলজিআরডিমন্ত্রী

পঞ্চগড়ের পরিত্যক্ত ঘর এখন ‘অপ্রতিরোধ্য বাংলা জাদুঘর’

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২২  

পঞ্চগড়ের পরিত্যক্ত ঘর এখন ‘অপ্রতিরোধ্য বাংলা জাদুঘর’                   
পঞ্চগড়ের মহানন্দার তীরবর্তী স্থানে ডাকবাংলোর পিকনিক কর্ণারের একটি পরিত্যক্ত ঘরকে ‘অপ্রতিরোধ্য বাংলা জাদুঘর’ হিসেবে রূপ দিয়েছেন তেঁতুলিয়ার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা। স্থানীয় কাঞ্চন বাঁশ ব্যবহার করে অলংকিত করায় জাদুঘরটি খুব সহজেই নজর কাঁড়ছে পর্যটকদের। ইউএনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে ও পর্যটকদের বিনোদন জন্য জাদুঘরটি নির্মাণ করেছেন। 

পর্যটন স্পট ডাকবাংলোর পিকনিক কর্ণারে নির্মিত জাদুঘরটির ১১টি গ্যালারিতে রয়েছে দুর্লভ সব মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসের স্থিরচিত্র। ছবিগুলোতে ব্রিটিশ ঔপনেবেশিক শাসন থেকে ভারত ভাগ, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডসহ স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাসের ঘটনা ফুটে উঠেছে। এছাড়া গ্যালারিতে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্জন, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভিশন-২০২১, ২০৪১ এবং ১শ বছরের প্রজেক্ট পরিকল্পনা। এছাড়াও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ চত্বর, ৭ বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি, গ্রামীণ বাংলার কৃষাণ-কৃষানীর মূর্তি, রয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিলুপ্তির পথে গরুর গাড়ী, পালকি, চা কন্যা ও বিভিন্ন নান্দনিক কৃত্রিম ভাস্কর্য।

পর্যটকরা কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ-সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দেখছেন অপ্রতিরোধ বাংলা জাদুঘরটি। মুক্তিযুদ্ধের নানান ঘটনাপ্রবাহ দেখতে পেয়ে আনন্দিত হচ্ছে দর্শনার্থীরা।  নতুন প্রজন্মের দর্শনার্থীরা বলছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখতে না পারলেও এখানে এসে বাংলাদেশকে জানতে পারছি। 
 
লুৎফর রহমান নামে আরেক দর্শনার্থী বলছেন, উদ্যোগটি চমৎকার। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। সে সময়ের ঘটনা ও ইতিহাস ও যুদ্ধপরবর্তী দেশের উন্নয়ন চিত্র এখানে এসে দেখতে পেরে খুব ভালো লাগলো। এখানে এসে যেকোন দর্শনার্থী জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন, ইতিহাস, বিকাশে তেঁতুলিয়ায় আগত পর্যটকদের জন্য ডাকবাংলোর পিকনিক কর্ণারে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘অপ্রতিরোধ্য বাংলা জাদুঘর’ স্থাপনা করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে প্রতিবছর প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা এসে থাকেন। এই আনন্দের পাশাপাশি যাতে তারা দেশের ইতিহাস, নিজেদের ঐতিহ্য ও দেশের আন্দোলন ও উন্নয়ন, পদ্মাসেতু নির্মাণ, আশ্রয়ন প্রকল্প, বিদ্যুতসহ বিভিন্ন ভিশন সম্পর্কে জানতে পারে সে লক্ষেই এই ‘অপ্রতিরোধ্য বাংলা জাদুঘর’ ফটোগ্যালারির মাধ্যমে এসব চিত্র দেখানোর চেষ্টা করেছি। একজন পর্যটক অথবা স্কুল শিক্ষার্থী যদি এই জাদুঘরে আসেন তাহলে তারা অনেক কিছুই জানতে পারবেন।
#ঢাকা পোস্ট।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –