• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৭ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ওয়াদা করুন, নৌকায় ভোট দেবেন: প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ সাত জুয়াড়ি গ্রেফতার এসএসসি-সমমানের পরীক্ষা শুরু ৩০ এপ্রিল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করবে সরকার নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজুল, সম্পাদক অক্ষয়

মেয়র হানিফের মৃত্যুবার্ষিকী কাল, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২২  

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল সোমবার। দোয়া মাহফিল, কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আপসহীন এই নেতাকে স্মরণ করা হবে। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পৃথক বাণী দিয়েছেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৮ নভেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আজিমপুরে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ এ শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মক আহত হন মোহাম্মদ হানিফ। শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়ায় তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। মোহাম্মদ হানিফ ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর ৬২ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর ছেলে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৪ সালে ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার আবদুল আজিজ ও মুন্নি বেগম দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পেয়ে ছয় দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৬৭ সালে তাঁর বহুমুখী প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে মেয়ে ফাতেমা খাতুনকে মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে বিয়ে দেন ঢাকার শেষ সরদার আলহাজ মাজেদ সরদার।  

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া ঢাকা-১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৯৬-এর মার্চে স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে তাঁরই নেতৃত্বে ‘জনতার মঞ্চ’ তৈরি করে তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ঘটান এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি মারাত্মক আহত হন। ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরেরই ২৮ নভেম্বর ৬২ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ হানিফ।  

রাষ্ট্রপতির বাণী 

মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ষষ্ঠদশ (১৬তম) মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কর্মময় জীবনকে স্মরণ করে প্রদত্ত বাণীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। তাঁর সততা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল একজন মানুষ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে আওয়ামী লীগের একজন সংগ্রামী নেতা হিসেবে আমৃত্যু জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন দুঃখী মানুষের আপনজন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হলে তিনি মানবঢাল রচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালান। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। নিজের জীবন বাজি রেখে প্রিয় নেত্রীকে বাঁচাতে আত্মত্যাগের এ উদাহরণ সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর জন্য সব সময় অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, মোহাম্মদ হানিফ বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণার সময় থেকে জাতির পিতার একান্ত সহকারী হিসেবে অত্যন্ত একাগ্রতা ও বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই জননেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের একজন নিবেদিতপ্রাণ, ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে মোহাম্মদ হানিফ মানুষের হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন। মোহাম্মদ হানিফের সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করবে।

স্পিকারের বাণী 

এ ছাড়া স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁর বাণীতে বলেন, মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব। তিনি মানবকল্যাণমূলক চিন্তাধারা, পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। মেয়র হিসেবে ঢাকাবাসীর জন্য নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে তাঁর প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার। ঢাকার উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ঢাকাবাসী আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নলালিত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রয়াত এই নেতার নানামুখী প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –