• মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

পঞ্চগড়ে মামলার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যুবকের কাণ্ড

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৩  

 
পঞ্চগড়ে মামলার যন্ত্রণা এবং বালুর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১০ টার দিকে মায়ের দেওয়া সেমাই খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন সাদ্দাম। কিছুক্ষণ পর নিজ বাড়িতে দিনে দুপুরে গলায় ফাঁস দেন তিনি। 

জানা যায়, সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারি বনগ্রাম ইউপির ডাংগাপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে। সদর উপজেলার হুমায়ুন মার্কেটে বালুর ব্যবসা করে আসছিল সাদ্দাম। গতকাল তার বালুর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।  

জানা যায়, মার্চ মাসে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। এ নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বাড়িতে আসলেও মামলা থেকে জামিন না নেওয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছিলেন সাদ্দাম।

এছাড়া তার বালুর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা সইতে না পেরে হতাশায় আত্মহত্যা করছেন বলে জানান সাদ্দামের পরিবার।

সাদ্দামের বাবা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মামলার যন্ত্রণায় ঢাকায় পালিয়েছিল সাদ্দাম। বাড়িতে এসে গ্রেফতার আতঙ্ক নিয়ে হতাশায় ছিল। মামলার জামিন নেয়া হয়নি। গত কয়েকদিন থেকে তার চলাফেরা অসংগতি ছিল। আমার কষ্ট একটাই আমার ছেলে মামলার আসামি হয়ে আত্মহত্যা করলো।

সাদ্দামের মা সেলিনা আকতার বলেন, ‘আমার কোটি টাকার সম্পদ ছেলেটা চলে গেল। মারা যাওয়ার আগে আমার ছেলে বলেছিল মা আমাকে ভালো লাগতেছেনা আমি মারা যাবো। আমি সকালে সেমাই রান্না করে সাদ্দামকে খাইয়েছিলাম। এভাবে সে আত্মহত্যা করবে ভাবিনি।’

সাদ্দামের চাচা তাহেরুল ইসলাম জানান, মামলা হওয়ায় টাকার অভাবে জামিন না নেয়ায় গত কয়েকদিন থেকে সাদ্দাম হতাশাগ্রস্ত ছিল। এক দিকে মামলা অন্যদিকে তার বালুর ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় সে আত্মহত্যা করতে পারে।

বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুনুর রশিদ জানান, খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশ ডাংগাপাড়া গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সাদ্দামের নিজ বাড়ির সেমি পাকা ঘরে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তও করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) কনক কুমার দাস বলেন, আমার মনে হচ্ছে এটি একটি সাধারণ আত্মহত্যা। আসলে মানুষ অসহিঞ্চু হয়ে পড়েছে। হতাশাগ্রস্ত অবস্থা থেকেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে কাজ করছি। 

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –