• মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

নভেম্বরজুড়ে দেখা যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২৩  

 
দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ দেখতে পর্যটকদের ভিড় এখন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সর্ব উত্তরের পঞ্চগড়সহ সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে কুয়াশা ও মেঘমুক্ত আকাশে যাচ্ছে রুপালি কাঞ্চনজঙ্ঘা। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর পাড় বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ দেখার আদর্শ স্থান। শীতের শুরুতে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে দেখা মিলছে নয়নাভিরাম কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে কুয়াশা আর মেঘের কারণে সপ্তাহজুড়ে দেখা যায়নি। সোমবার সকালে আকাশ পরিষ্কার থাকায় আবারও উঁকি দিয়েছে এই পর্বত শৃঙ্গ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দেখা যাবে নভেম্বরজুড়ে।

তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর ওপারেই ভারত ও নেপালের সীমানা। ভারতের সিকিম ও নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় সীমানাজুড়ে এই পর্বতশৃঙ্গের উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। তেঁতুলিয়া থেকে দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। তবে ভোরের আলোয় তেঁতুলিয়ার উত্তর আকাশে বেশ কাছাকাছি মনে হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাসপোর্ট-ভিসার মাধ্যমে ভারত যেতে না পারা প্রকৃতিপ্রেমীরা শীতের আমেজে অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ছুটে যাচ্ছেন তেঁতুলিয়ায়। 

কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন ছাড়াও সমতলের চা বাগান, মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলনসহ সবুজের ছায়াঘেরা তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে খুশি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা। 

সোমবার সকালে তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অবরোধের মধ্যেও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দেশীয় পর্যটকদের ভিড়। অনেকেই সূর্যোদয়ের সময় শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে রাতেই এসে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাতযাপন করেছেন। কেউ আবার সূর্যোদয়ের আগেই তেঁতুলিয়ার মহানন্দার পাড়ে বসে থাকেন। তারা কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও তেঁতুলিয়ার বিস্তৃীর্ণ এলাকার সমতলের চা বাগান, ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো, বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট ঘুরে বেড়িয়েছেন।

কুমিল্লা থেকে আসা জাকির হোসেন ফরহাদ বলেন, তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার ইচ্ছা দীর্ঘদিনের। আজকে খালি চোখে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগলো। এটা দেখা খুব শখ ছিল। 

চট্টগ্রাম থেকে আসা এমদাদুল হক বলেন, এতদিন কাঞ্চনজঙ্ঘার কথা শুনেছি। দেশের মাটি থেকে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। 

সপরিবারে দিনাজপুর থেকে আসা আব্দুর রহমান জানান, ভোরে এখানে এসেছি। এর আগেও তেঁতুলিয়া এসেছিলাম। কিন্তু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা হয়নি। 

স্থানীয় অটোরিকশা চালক আব্দুর রশিদ বলেন, বাইরে থেকে ট্যুরিস্টরা আসলে আমরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরাই, নানা জায়গা দেখাই। অনেক যাত্রী খুশি হয়ে আমাদের বকশিস দেন। বর্তমানে কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কার দেখা গেলেও অবরোধের কারণে পর্যটকরা ঠিকমতো আসতে পারছেন না। 

তেঁতুলিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সাজেদুর রহমান বলেন, শীত মৌসুমে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা আসেন। আমরা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে সবাই আনন্দ পান। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকরা এসে স্বাচ্ছন্দে ঘুরে যান। আকাশ ভালো থাকলে নভেম্বর পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা। 

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফজলে রাব্বি বলেন, তেঁতুলিয়া এখন পর্যটনের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। যারা নতুন করে এখানে আসছেন, বিশেষ করে কাঞ্চনজঙ্ঘা, সমতলের চা বাগান, মহানন্দা নদীর পাথর তোলার দৃশ্য। পর্যটকরা যাতে এগুলো ভালোভাবে দেখতে পান সেজন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। আবাসন সমস্যাসহ কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন সেজন্য আমরা পরিবহন সেক্টর, হোটেল মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। কোনো পর্যটকের সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেব।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –