• রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪৫

বাঘের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে পঞ্চগড়ে প্রতিনিধি দল

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

পঞ্চগড়ের ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় চিতা বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা অধিকতর তদন্তের ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

দলের প্রধান ও বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন, একই ইউনিটের বন্যপ্রাণি স্কাউটস সঞ্জয় বন্ধ এবং জসিম শেখ।

শনিবার বিকেলে আটোয়ারী উপজেলার তড়িয়া ইউনিয়নের দাড়খোর সীমান্তের নাগর নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মানুষ জনের মধ্যে এখনো আতঙ্ক রয়েছে। তবে বাঘের মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের একেক জন একে রকম কথা বলছেন। এদের মধ্যে কেউ বলছেন, বাঘটি আগে থেকেই দুর্বল ও রোগাক্রান্ত ছিল। সীমান্তের নাগর নদীতে বাঘটিকে দেখে স্থানীয়রা লাঠিসোটা ও জাল দিয়ে পাকড়াও করে। নদী থেকে উদ্ধারের পর বাঘটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আবার কেউ বলছেন, গত রোববার স্থানীয় আলম ইসলামের একটি গরু হিংস্র প্রাণীর আক্রমণে মারা যায়। গরুর মৃত্যুর ক্ষোভে আলমের ছোট ছেলে মৃত গরুর মধ্যে বিষ (ফুরাডন) মিশিয়ে রাখে। সেই গরুর মাংস খেয়ে বৃহস্পতিবার বাঘটি অসুস্থ হয়ে নদীর ধারে অবস্থান করছিল। পরে স্থানীয়রা জাল দিয়ে বাঘটি উদ্ধার করে।

আলম ইসলামের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, ‘গত রোববার আমার একটি গরু মারা যায়। গরুটিকে বাঘ নাকি শেয়াল আক্রমণ করেছিল জানি না। তবে আমার ছোট ছেলে বলেছিল, মা আমাদের এতবড় ক্ষতি হলো, আমি তাকেও মেরে ফেলবো। এরপর সে গরুর মধ্যে অল্প করে ফুরাডন বিষ দিয়েছে বলে শুনেছি। এখন বাঘটি বিষ খেয়ে মারা গেছে, নাকি ঠান্ডায় অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছে আমি জানি না।’

স্থানীয় কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, বাঘ দেখতে পাওয়ায় চেচামেচি শুনে আমি কাছে যাই। দেখি বাঘটি বসে আছে এবং আমরা কাছে গেলেও বাঘটি ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছিল না। আমরা তখন একটি জাল দিয়ে বাঘটিকে ঢেকে দেই। তখন বাঘটি নড়াচড়া শুরু করলে একটি লাঠি দিয়ে ভালো করে জালে পেঁচিয়ে ধরি। তখন বাঘটি মনে হয় মারা গিয়ে নদীতে ডুবে যাচ্ছিল। পরে নদী থেকে ডাঙায় নিয়ে একটি বাঁশ দিয়ে বাঘের চার পা বেঁধে সামনে নিয়ে আসি।

ঢাকা বন ভবনের বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাঘের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। প্রত্যক্ষদর্শী ময়নউদ্দিনসহ স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। এদের কেউ কেউ বলেছেন মারা যাওয়া গরুর মধ্যে বিষটোপ দেওয়ায় সেই গরুর মাংস খেয়ে বাঘটি অসুস্থ হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, বাঘটিকে উদ্ধারের সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হয়তো মাথায় আঘাত লেগে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এরপর বাঘটিকে জাল দিয়ে পেঁচিয়ে আনা হয়েছে। আমরা এখানে এসে নিশ্চিত হয়েছি যে, এখানে একটি চিতা বাঘ হত্যা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অনেক মানুষ জড়িত।

তিনি বলেন, আমরা বিশেষ পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য বাঘের শরীর এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত জাল থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। এখন বিষটোপের কারণে নাকি মানুষের আঘাতে বাঘের মৃত্যু হয়েছে এটা আরও পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

শুক্রবার সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ভারতীয় দাড়খোর সীমান্ত এলাকায় নাগর নদীর পাড় থেকে চিতা বাঘটির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগের লোকজন। পরে আটোয়ারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষে বাঘটির মরদেহ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক জাদুঘরে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আটোয়ারী উপজেলা প্রশাসন।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –