• বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৭ ১৪২৮

  • || ১৪ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের জোরালো পদক্ষেপ চান প্রধানমন্ত্রী লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব পীরগঞ্জে পর্নোগ্রাফির আলামতসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ৮ আসামি গ্রেপ্তার লাশের পকেটে চিরকুট, ছিল মোবাইল নম্বর রংপুরে কিস্তির চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

`আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ভিত্তি রচনা করে গেছেন বঙ্গবন্ধু`

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২১  

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যা কিছু আজ তার সবকিছুর ভিত্তি রচনা করে গেছেন বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাহসিকতা দিয়ে নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য তৈরি করেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বুধবার (১৮ আগস্ট) আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ, আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীন, বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, ই-ক্যাবের সভাপতি সমি কায়সার, বিসিএসের সভাপতি শাহিদ-উল-মুনীর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মহান স্বাধীনতার স্থপতিই নন, স্বদেশ বিনির্মাণের রাষ্ট্রনায়ক। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ মাত্র সাড়ে ৯ মাসে একটি সংবিধান উপহার দেওয়ার নজির পৃথিবীর ইতিহাস খুঁজলে দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে না বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ২৪ বছরের শোষণ, নির্যাতন ও নিষ্পেষিত একটি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ, ২ লক্ষাধিক ধর্ষিতা-নির্যাতিতা মা-বোনদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছরের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময়ী বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন।

বাংলাদেশে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যা কিছু আজ তার সবকিছুর ভিত্তি রচনা করে গেছেন বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ইপিআরের ওয়ারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারা বাংলাদেশে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রচার করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটের অরবিটাল ফ্রিকুয়েন্সি বরাদ্দ প্রদানকারী সংস্থা জাতিসংঘের আইটিইউ এর সদস্য পদ গ্রহণ করেছিলেন। 

তিনি বলেন, বিজ্ঞান মনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে ড. কুদরত খোদার মতো একজন বিজ্ঞানীকে শিক্ষানীতি প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম, বাংলাদেশ ও বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে মুজিব হানড্রেড ডট গভ ডট বিডি, বঙ্গবন্ধুর ওপর দুটি কুইজ প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুইজের আয়োজন করেছি। এ সাইটে দেশে এবং বিদেশে কোটি কোটি মানুষ ভিজিট করছে। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন ও নির্দেশনাগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে। অনুশীলন এবং গবেষণা করতে পারছে। 

পলক বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা পরিণত হওয়ার পথে। এখনো একটি প্রক্রিয়াশীল চক্র প্রতিনিয়ত আমাদের মধ্যে আবার বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নাম শুধু বিশ্বে ইতিহাসেই নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালের ১২ মে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশে চিরসম্মরণীয় হয়ে আছে।

তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে উপদেশটি বঙ্গবন্ধু সারা জীবন অনুসরণ করেছেন তা হলো ‘অনেস্টি অব পারপাস অ্যান্ড অনেস্টি অব ইনটেনশন’ এ একটি উপদেশ মেনে চলতে পারলে জীবনে কখনো বাধাগ্রস্ত হবো না। পরে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –