• মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সবুজে ভরে গেছে পঞ্চগড়

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

 
পঞ্চগড় সবুজে ভরে উঠেছে। কৃষি প্রধান এই জনপদে এখন চোখ মেললেই সবুজ আর সবুজ। উপরে নীল সাদা মেঘের ভেলা। নিচে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজ ধানক্ষেত, চা বাগানসহ নানা ধরনের ফলের বাগান। সবকিছুই নতুন পাতায় সবুজাভ। সবকিছু সবুজে একাকার। যেন সবুজ চাদর বিছানো সমতল। সকালের সূর্যের আলো ছড়িয়ে দেয় এক ধরনের মুগ্ধতা, দুপুরে অন্যরকম, বিকেলের গোধুলীর রং ছড়িয়ে পড়ে সবুজ ঘেরা মাঠে।

এসময় কৃষকের কাজ কাম কম। তারা দোকানে, হাটে, বাজারে বসে বসে নানা গল্প গুজবে দিন পার করছেন। এবছর পাটের ন্যায্য দাম পাননি তারা। এ নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে তাদের। অনেকে বলছেন আর পাট চাষ করবেন না। দীর্ঘদিন থেকে কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্যও পাচ্ছেন না ক্ষুদ্র চা চাষিরা। এ নিয়ে আন্দোলন করেও কোনো লাভ হয়নি।

চা চাষিরা বলছেন, চা কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্রে চা চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষুদ্র চা চাষি চা বাগান তুলে ফেলছেন। অনেকে আশার কথাও শোনাচ্ছেন। এবার আমনের ফলন ভালো হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন কেউ কেউ।
জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মৃদু বাতাশে দুলছে ধানক্ষেত। ধানের চারা এখন পরিপুষ্ট। কেউ কেউ ব্যস্ত সময় পার করছেন আমন পরিচর্যায়। বর্তমানে আমন ধানের চারাগুলো শিষ দেওয়া শুরু করেছে। আর কিছুদিন পরেই ধানক্ষেতগুলো ভরে যাবে শিষ দিয়ে।

কৃষকরা বলছেন, এবছর আবহাওয়া অনেক ভালো। সময়মতো বৃষ্টি হয়েছে। রোদও পাওয়া গেছে। তাই ধানের ফলন ভালো হবে। ধানের শিষে তাই নতুন স্বপ্ন বুনছেন তারা। কৃষকরা জানান, কীট-পতঙ্গ পোকা মাকড়ের আক্রমণ বেড়েছে। সার কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমন আবাদে খরচের পরিমাণ বেড়েছে।

সদর উপজেলার জগদল এলাকার চা চাষি মানিক হোসেন জানান, বড় আশা করে চা বাগান করেছিলাম। কিন্তু দাম নাই । লোকশান হচ্ছে। এবছর অপেক্ষা করছি। আগামী বছর পরিস্থিতি ঠিক না থাকলে চা বাগান কেটে ফেলবো। পাটের দাম ভালো পাইনি। আশা করে আছি ধানের দাম ভালো পাবো।

তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান এলাকার কৃষক আবেল হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়া যাবে। এবারে ধানের দাম ভালো পাবো বলে আশা করছি। আমরা কৃষক মানুষ। খাবারের জন্য কিছু ধান জমা রাখতে হয়। কিছু ধান বিক্রি করে সারা বছরের কেনা কাটা, বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে হয়। গৃহস্থালি কাজ কাম তো আছেই। সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। তাই উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম না পেলে খুব অসুবিধা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, জেলায় এ বছর ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন।

উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, সবুজে ভরে গেছে পঞ্চগড়। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে। আমনের আবাদ ভালো হয়েছে। ফলনও ভালো হবে আশা করছি। ধানের ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।

– দৈনিক পঞ্চগড় নিউজ ডেস্ক –